অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
শরীয়তপুরের বহুল আলোচিত স্কুলছাত্রী রিমা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া চার আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দুই আসামিকে বেকসুর খালাস এবং অপর দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৬ জুলাই) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় দেন।
রায় অনুযায়ী, স্বপ্না বেগম ও সেলিম চৌকিদার খালাস পেয়েছেন। অন্যদিকে চুন্নু মোড়ল ও নুরু মোড়লের মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা ইউনিয়নের আহাম্মেদ চৌকিদারকান্দি গ্রামের ইলিয়াস চৌকিদারের মেয়ে রিমা আক্তার নিখোঁজ হয়।
দুই দিন পর, ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে নাওডোবা এলাকার মজিদ হাওলাদারকান্দি গ্রামের খোকন হাওলাদারের পরিত্যক্ত ভিটা থেকে পাটকাঠি দিয়ে ঢাকা ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় রিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর ১৪ সেপ্টেম্বর রিমার বাবা ইলিয়াস চৌকিদার জাজিরা থানায় ধর্ষণের পর হত্যা অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে মামলাটি শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন হয়। ২০১৯ সালের ৭ মে ট্রাইব্যুনাল চার আসামি—চুন্নু মোড়ল, নুরু মোড়ল, সেলিম চৌকিদার ও স্বপ্না বেগমকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
পরে নিম্ন আদালতের রায় অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরাও রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় আংশিক পরিবর্তন করে সর্বশেষ এ রায় ঘোষণা করেন।
বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডের মামলায় নিম্ন আদালতের রায় কার্যকর হওয়ার আগে আইন অনুযায়ী হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স শুনানি বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিলও একসঙ্গে নিষ্পত্তি করা হয়। শুনানিতে সাক্ষ্য-প্রমাণ, জবানবন্দি ও মামলার নথি পুনরায় পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন।
আর/

