অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত আওয়ামী নৃশংসতার বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ ১১ দলীয় ঐক্য জোট।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনের আগে একই স্থানে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, জুলাই স্মরণে ঘোষিত ৩৬ দিনের কর্মসূচির লক্ষ্য হলো গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে জনমত গঠন এবং বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত গুম-খুনের বিচার নিশ্চিত করা। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং বর্তমান সরকারের কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করার বিষয়ও কর্মসূচিতে গুরুত্ব পাবে।
হামিদুর রহমান আযাদ অভিযোগ করেন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি এবং নির্বাচনকে ঘিরে ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফলাফল পরিবর্তনের অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, “নির্বাচনের ফলাফল জামায়াত মেনে না নিলে দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যেতে পারত। দেশের স্বার্থে আমরা তা মেনে নিয়েছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনের মতো কর্তৃত্ববাদী সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। বিচারপ্রক্রিয়ার শিথিলতার কারণে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট প্রায় ৮০টি মামলা ট্রাইব্যুনালে গেলেও এখন পর্যন্ত মাত্র সাতটির রায় হয়েছে। বিচারকাজ বিলম্বিত করা হয়েছে এবং এখনও তা অব্যাহত রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের সঙ্গে জুলাই সনদ নিয়ে ছলচাতুরী করা হয়েছে এবং বিচার প্রক্রিয়াকে দুর্বল করা হয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— ১ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত দেশব্যাপী সেমিনার আয়োজন, জুলাই স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, চিত্র প্রদর্শনী ও গ্রাফিতি অঙ্কন। এছাড়া ৪ জুলাই রাজধানীর বাইরে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
এ ছাড়া ২০ জুলাই নারীদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা, ২৩ ও ২৪ জুলাই দেশব্যাপী চিত্রাঙ্কন ও গ্রাফিতি কর্মসূচি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রক্তাক্ত স্থানগুলোতে পৃথক দিনে সমাবেশ, ৩১ জুলাই মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হবে।
কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে ৫ আগস্ট মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমাবেশ ও মিছিল, ৬ আগস্ট সারাদেশে মানববন্ধন এবং ৮ আগস্ট জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এনসিপির নেতা আরিফুল ইসলাম আদিব, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন এবং লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান উপস্থিত ছিলেন।

