অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
চট্টগ্রাম মহানগরে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ক্রমেই উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র চার মাসে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) আওতাধীন ১৬ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতনের ১৪৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। গড়ে প্রতিদিন অন্তত একটি মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু আইন প্রয়োগ করলেই এ ধরনের অপরাধ কমানো সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে শিশু ও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করতে হবে। একইসঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং মামলার ধীরগতিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সম্প্রতি নগরের বিভিন্ন এলাকায় শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার একাধিক ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। নগরের বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মনির হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এর একদিন পর বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে প্রতিবেশী হাসান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বর্তমানে ভুক্তভোগী শিশুটি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অন্যদিকে ডবলমুরিং এলাকায় সাত ও এগারো বছর বয়সী দুই শিশুকে খালি প্লটে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এহসান নামে এক নিরাপত্তাকর্মীকে আটক করে স্থানীয়রা। পরে গণপিটুনির পর তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ক্রাইম) মো. রইছ উদ্দিন জানিয়েছেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত চার্জশিট দাখিল এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রমাণ নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে বিশেষভাবে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকাসক্তি, সামাজিক অবক্ষয়, পর্নোগ্রাফির নেতিবাচক প্রভাব, পারিবারিক সহিংসতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি শিশু নির্যাতনের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক অপরাধী শিশুদের সহজ টার্গেট মনে করে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের আইনজীবীরা বলছেন, শিশু ধর্ষণ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনালে স্পিড ট্রায়ালের ব্যবস্থা থাকলেও সাক্ষী উপস্থিতি ও তদন্ত জটিলতায় বিচার দীর্ঘ হয়। তবে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে অপরাধীদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি হবে এবং এ ধরনের অপরাধ কমে আসবে।
মানবাধিকারকর্মী ও সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, কেবল আইন নয়—সামাজিক সচেতনতা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি। পাশাপাশি অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। সচেতন মহল বলছে, দ্রুত বিচার, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুললেই কেবল এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
আর/

