অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে গভীর মানবিক সংকটে পড়েছেন হাজার হাজার নাবিক। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই হাজারের মতো জাহাজ বর্তমানে ওই অঞ্চলে আটকা রয়েছে এবং সেগুলোতে অবস্থান করছেন ২০ হাজারের বেশি নাবিক।
সম্প্রতি ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরালোভাবে তুলে ধরে নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আটকে থাকা নাবিকদের অনেকেই জাহাজ থেকে নামতে পারছেন না। দীর্ঘদিন সমুদ্রে অবস্থানের কারণে তাদের মধ্যে মানসিক চাপ বাড়ছে। সীমিত খাবার, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
ভারতীয় এক নাবিক রয়টার্সকে জানান, প্রতিদিন তারা আতঙ্ক নিয়ে রাত পার করছেন। হামলার লক্ষ্যবস্তু না হওয়ার প্রার্থনাই এখন তাদের প্রধান চিন্তা। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কাও বাড়ছে।
সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ কিছু জাহাজে খাদ্য, পানি ও জ্বালানি সরবরাহের চেষ্টা চালালেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনগুলো। ইতোমধ্যে বহু নাবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়। চলমান সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে ভারতসহ কয়েকটি দেশ তাদের জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ভারত সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে অনেক জাহাজ ওই অঞ্চলে পাঠানো হবে না।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না এলে এই সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ ও নৌ চলাচলেও এর বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
আর/

