অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
চট্টগ্রাম নগরে গত দুই দিনে তিন শিশুকে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি শিশু নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে প্রকাশ্যে ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের দেখতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় শিশুদের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
মেয়র বলেন, “তিন-চার বছরের নিষ্পাপ শিশুদের চকলেট কিংবা নানা প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এটি সমাজের ভয়াবহ নৈতিক অবক্ষয়ের চিত্র।” তিনি অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ছোট শিশুদের একা দোকানে বা বাইরে পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “আইন সংশোধন করে এই ধরনের পাষণ্ডদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে সাত দিনের মধ্যে প্রকাশ্যে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।”
চমেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) তথ্য তুলে ধরে মেয়র জানান, গত আট বছরে চট্টগ্রামে ১২ বছরের নিচে ৪২২টি শিশু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তবে লোকলজ্জার ভয়ে অনেক পরিবার অভিযোগ না করায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
কর্মজীবী নারীদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে চট্টগ্রামে একটি বড় কেন্দ্রীয় ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের ঘোষণা দেন মেয়র শাহাদাত। পাশাপাশি প্রতিটি গার্মেন্টস কারখানায় ডে-কেয়ার সেন্টার বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে নারী শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। অথচ তাদের সন্তানরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, যা রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।
গার্মেন্টস মালিকদের উদ্দেশে মেয়র বলেন, বড় বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি একটি ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা তাদের জন্য কঠিন কিছু নয়। তিনি বাণিজ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান, গার্মেন্টস কারখানার অনুমোদনের ক্ষেত্রে ডে-কেয়ার সেন্টার বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবে যুক্ত করতে।
এ সময় গত বছরের বর্ষাকালে হালিশহরে এক গার্মেন্টস কর্মীর সাড়ে তিন বছরের শিশুর ড্রেনে পড়ে মৃত্যুর ঘটনাও স্মরণ করেন তিনি। মেয়র বলেন, শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে এমন দুর্ঘটনা ও অপরাধের দায় সমাজের কেউ এড়াতে পারে না।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দীন জানান, চিকিৎসাধীন তিন শিশুই বর্তমানে শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের সব চিকিৎসা ব্যয় বহন করছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত দুই দিনে চট্টগ্রামের বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, বায়েজিদ ও খুলশী এলাকায় অন্তত তিনটি শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আর/

