অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত জেলা জামায়াতের রোকন সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সংস্কার ইস্যুতে বিএনপি এখন এমন এক অবস্থায় রয়েছে, যেখান থেকে সহজে বের হওয়া সম্ভব নয়। তিনি মন্তব্য করেন, “কাঁটা বিএনপির গলার এমন জায়গায় আটকে গেছে, যা গিলতেও পারে না, ফেলতেও পারে না।”
শনিবার দুপুরে শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এ সম্মেলনে তিনি বলেন, সংস্কার প্রস্তাব না মেনে বিএনপি নিজেরাই রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। তার ভাষায়, “বল এখন বিএনপির কোর্টে। তারা যদি ভুল শট দেয়, তাহলে সেই বল নিজেদের গোলপোস্টেই ঢুকে যাবে।”
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও দাবি করেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি গণভোট ও সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন নিজেও জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার পর দলটি সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে।
তার অভিযোগ, এখন বিএনপি গণভোটকে অবৈধ বলছে। তিনি বলেন, “নিজেরা ভোট দিয়ে এখন নিজেরাই গণভোট অস্বীকার করছে। সাহস থাকলে সংসদে গিয়ে বলুক তারা ‘না’ ভোট দিয়েছে।”
উচ্চকক্ষ গঠন প্রসঙ্গেও বিএনপির সমালোচনা করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, বিএনপি আনুপাতিক ভোট ব্যবস্থাকে মানতে চায় না। বরং তারা আসনভিত্তিক বণ্টনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যা সংস্কারের চেতনার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পিএসসির চেয়ারম্যান নিয়োগের বিষয়েও বক্তব্য দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে চেয়ারম্যান নিয়োগ হলে সেখানে দলীয় প্রভাবের সুযোগ থেকে যায়। তার দাবি, কোটাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থার বিরুদ্ধেই জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধারা আন্দোলন করেছিলেন।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষের প্রাণহানির পর যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তিনি আরও মন্তব্য করেন, “মানুষ বলছে, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কুফা লেগেছে।”
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, আগামী স্থানীয় নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে দেশের স্থিতিশীলতা ধরে রাখা কঠিন হবে।
ঝালকাঠি জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, বরিশাল অঞ্চলের টিম সদস্য মাওলানা ফখরুদ্দিন খান রাজী, জেলা সেক্রেটারি মু. ফরিদুল হক এবং নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট বি এম আমিনুল ইসলাম।
আর/

