বিদেশগামীদের ভিসা নথিতে কিউআর কোড বাধ্যতামূলক, ৯০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ

ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও আর্থিক নথির সত্যতা দ্রুত যাচাইয়ে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের; দূতাবাসে ভিসা প্রক্রিয়া হবে আরও সহজ ও স্বচ্ছ

by ABDUR RAHMAN
বিদেশগামীদের ভিসা নথিতে কিউআর কোড বাধ্যতামূলক

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

বিদেশে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ভিসা আবেদনের জন্য জমা দেওয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট, আর্থিক সক্ষমতার সনদ ও বিনিয়োগ–সম্পর্কিত নথিতে কিউআর কোড সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

মঙ্গলবার (১২ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ (বিপিডি-১) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও ভিসা সেন্টারে বাংলাদেশি নাগরিকদের জমা দেওয়া ব্যাংক নথি তাৎক্ষণিক যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা তৈরি হচ্ছিল। এতে ভিসা প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সময় ও প্রশাসনিক ব্যয় বাড়ছিল।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা সংশ্লিষ্ট নথিতে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দেখা যাবে। এর মধ্যে থাকবে হিসাবধারীর নাম, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, স্টেটমেন্টের শুরুর ও শেষের স্থিতি এবং নথি তৈরির নির্দিষ্ট তারিখ।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এই ডিজিটাল যাচাই ব্যবস্থা চালু হলে বিদেশি দূতাবাস ও ভিসা কর্তৃপক্ষ খুব সহজেই নথির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারবে। ফলে জাল বা ভুয়া আর্থিক কাগজপত্র ব্যবহার কমবে এবং ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় আস্থা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কিউআর কোডের মাধ্যমে প্রদর্শিত তথ্য অন্তত ছয় মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে এবং তা যাচাইযোগ্য অবস্থায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সব নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশে ভিসা আবেদনে আর্থিক নথি যাচাই আরও কঠোর হওয়ায় ডিজিটাল ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা চালু করা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। বিশেষ করে ইউরোপ, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে ব্যাংক নথির সত্যতা যাচাই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন এ উদ্যোগ চালু হলে বিদেশগামীদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আগের তুলনায় আরও সহজ, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য হবে।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ