ধবলগুড়ি সীমান্তে উত্তেজনা: বাংলাদেশি গরু নিয়ে টানাপোড়েন, বিজিবির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গরু ধরে নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে উত্তেজনা; পরে বিজিবির উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে

by ABDUR RAHMAN
ধবলগুড়ি সীমান্তে বাংলাদেশি গরু নিয়ে উত্তেজনা

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলগুড়ি সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশি গরু ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিজিবির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

বিজ্ঞাপন
banner

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি সীমান্তের আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৮৭৩–সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকটি বাংলাদেশি গরু সীমান্তঘেঁষা ভারতীয় অংশে ঘাস খাচ্ছিল। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা গরুগুলো আটক করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

ঘটনা দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাংলাদেশিরা সেখানে জড়ো হয়ে বাধা দেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্র জানায়, এ সময় ভারতীয় কয়েকজন নাগরিকও লাঠিসোটা নিয়ে সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেন।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিজিবি সদস্যরা স্থানীয়দের শান্ত করেন। বিজিবির উপস্থিতির পর বিএসএফ সদস্যরা নিজ নিজ অবস্থানে ফিরে যায় এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।

জোংড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নজরুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশি গরু ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মূলত উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে বিজিবি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক বলেন, সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা কাছাকাছি অবস্থান নেন। তবে ঘটনাস্থল জিরো পয়েন্ট হওয়ায় তারা সরাসরি সেখানে প্রবেশ করেননি। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যায়।

এ বিষয়ে ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফজলে মুনিম জানান, সীমান্তে সামান্য ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। দুই পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হয়েছে এবং বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় গবাদিপশু ও অনুপ্রবেশ ইস্যুকে কেন্দ্র করে ছোটখাটো উত্তেজনার ঘটনা বাড়ছে। এ কারণে স্থানীয়দের আরও সতর্ক থাকার পাশাপাশি সীমান্তে নজরদারি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ