আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এখনো জনসমক্ষে না এলেও দেশটির যুদ্ধ ও কূটনৈতিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলে মনে করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন একাধিক গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি এবং সংঘাত নিরসনের আলোচনায় কৌশল নির্ধারণে সহায়তা করছেন। তবে বর্তমানে ইরানের ক্ষমতা কাঠামো বিভক্ত থাকায় প্রকৃত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কার হাতে রয়েছে, তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
যুদ্ধের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তার বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। ওই হামলায় মোজতবা খামেনিও গুরুতর আহত হন বলে জানা গেছে।
এরপর থেকেই তিনি জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকায় তার শারীরিক অবস্থা ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়।
মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, মোজতবা খামেনি এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শরীরের এক পাশ—মুখ, হাত, বুক ও পায়ে দগ্ধ হওয়ার চিহ্ন রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তিনি বর্তমানে কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবহার করছেন না। বরং সরাসরি সাক্ষাৎ বা দূতের মাধ্যমে সীমিত পরিসরে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।
তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরের প্রটোকল প্রধান মাজাহের হোসেইনি দাবি করেছেন, মোজতবা খামেনি সুস্থ আছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, খামেনির পা ও কোমরে সামান্য আঘাত লেগেছিল এবং কানের পেছনে ছোট একটি স্প্লিন্টারের আঘাত রয়েছে, যা দ্রুত সেরে উঠছে।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানান, তিনি মোজতবা খামেনির সঙ্গে দীর্ঘ সময় বৈঠক করেছেন। এটিই নতুন সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে কোনো শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তার প্রথম প্রকাশ্য সাক্ষাতের তথ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। দেশটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এখনো সচল রয়েছে।
একই সঙ্গে সিআইএর মূল্যায়নে বলা হয়েছে, মার্কিন অবরোধ চলমান থাকলেও ইরান আরও কয়েক মাস অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকতে সক্ষম হতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরানের নেতৃত্বব্যবস্থা এখনো বিভক্ত ও অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি ও চূড়ান্ত সমঝোতা আলোচনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবা খামেনি সর্বোচ্চ নেতৃত্বে থাকলেও বর্তমানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ দেশের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
সূত্র: সিএনএন

