আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের কড়াকড়ি নজরদারি ও নৌ-অবরোধ সত্ত্বেও কাস্পিয়ান সাগরপথ ব্যবহার করে ইরানে ড্রোনের যন্ত্রাংশ পাঠাচ্ছে রাশিয়া বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাস্পিয়ান সাগর বর্তমানে রাশিয়া ও ইরানের জন্য গোপন ও প্রকাশ্য উভয় ধরনের বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুটে পরিণত হয়েছে। এই পথ ব্যবহার করে সামরিক সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পরিবহন করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, কাস্পিয়ান সাগর ব্যবহার করে ইরান আবারও তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।
আরেক কর্মকর্তা বলেন, রাশিয়া থেকে যে হারে ড্রোনের যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা হচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে ইরান দ্রুত সময়ের মধ্যেই আগের ড্রোন সক্ষমতা ফিরে পেতে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে টানা ৪০ দিনের যুদ্ধে ইরানকে তাদের বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করতে হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের মোট ড্রোন সক্ষমতার বড় অংশ ওই সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে তেহরান এ ধরনের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, যুদ্ধে ব্যবহৃত ড্রোনের পরিমাণ মোট মজুদের তুলনায় খুবই কম ছিল এবং দেশটি আরও কয়েক মাস যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সরাসরি স্থলসীমান্ত না থাকলেও কাস্পিয়ান সাগর দুই দেশকে সংযুক্ত করেছে। এই রুট ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তুলনামূলক নিরাপদভাবে পণ্য ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে।
নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, আগে যেসব পণ্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো, তার একটি অংশ এখন কাস্পিয়ান সাগরপথে আনা-নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে শস্য, পশুখাদ্য, সূর্যমুখী তেলসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে।
প্যারিসভিত্তিক গবেষক অধ্যাপক নিকোল গ্রায়েভস্কি বলেন, নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের জন্য কাস্পিয়ান সাগর একটি আদর্শ রুটে পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংক ট্যাংক হাডসন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো লুক কফি বলেন, কাস্পিয়ান অঞ্চলকে মার্কিন নীতিনির্ধারকরা দীর্ঘদিন গুরুত্ব দেননি এবং রাশিয়া-ইরান সেই সুযোগই কাজে লাগাচ্ছে।
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

