আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে দেশটির এক সংসদ সদস্যের বক্তব্য ঘিরে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি দাবি করেছেন—প্রয়োজনে ইরান ‘ট্যাকটিকাল পারমাণবিক বোমা’ ব্যবহার করতে পারে।
উক্ত মন্তব্যটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এসেছে, যা কৌশলগত নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে, এই বক্তব্য ইরানের প্রকৃত সামরিক সক্ষমতা নিয়ে জল্পনা আরও বাড়িয়েছে।
সংসদ সদস্য আহমাদ বখশয়েশ আরদেশতানি, যিনি জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতি কমিটির সদস্য, ইঙ্গিত দিয়েছেন—ধর্মীয় ফতোয়া না থাকলে ইরান দ্রুত পারমাণবিক বোমা পরীক্ষা করতে পারত। তার এই মন্তব্য থেকেই মূলত নতুন বিতর্কের সূত্রপাত।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে বোঝানো হতে পারে যে, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে—তবে তা প্রকাশ্যে আনা হয়নি। যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই।
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির পূর্ববর্তী ফতোয়ায় পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট পর্যায়ের বক্তব্যেও এই নীতির পরিবর্তন না হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
তবে একই সময়ে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কিছু কমান্ডার এই অবস্থান পুনর্বিবেচনার জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি উঠেছে, যা নীতিগত অবস্থান নিয়ে দ্বৈত বার্তার সৃষ্টি করছে।
গত কয়েক বছরে ইরানের কিছু রাজনীতিবিদ দাবি করেছেন, দেশটি চাইলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম। যদিও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো এ ধরনের দাবির ব্যাপারে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরান অতীতে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত রাখার বিষয়ে আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় ছিল। তবে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে দেশটি কিছু ক্ষেত্রে সেই সীমাবদ্ধতা থেকে সরে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দেশ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করলেও তা কার্যকরভাবে ব্যবহারের আগে পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। ফলে ‘অপরীক্ষিত অস্ত্র’ ব্যবহারের সম্ভাবনা বাস্তবসম্মত নয় বলেও তারা মনে করেন।
সব মিলিয়ে, ইরানের এমপির এই বক্তব্য এখনো নিশ্চিত বাস্তবতার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এটি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
আর/

