অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরব থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল নিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছেছে একটি তেলবাহী জাহাজ। এতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিতে স্বস্তি ফেরার আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের ট্যাংকারটি প্রায় ১ লাখ ৩৯৫ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে দেশের জলসীমায় প্রবেশ করে এবং বুধবার দুপুরে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া বহির্নোঙরে পৌঁছায়।

জাহাজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৪৯ দশমিক ৯৫ মিটার। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী, কাস্টমস ও সার্ভেয়ার সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পরই শুরু হবে লাইটারিং কার্যক্রম।
লাইটারিং প্রক্রিয়ায় বড় জাহাজ থেকে ছোট ট্যাংকারে তেল স্থানান্তর করে তা চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে নেওয়া হবে। সেখানে পরিশোধনের মাধ্যমে জ্বালানি উৎপাদন শুরু করা হবে।
উল্লেখ্য, অপরিশোধিত তেলের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ এপ্রিল রাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ৭ মে থেকেই প্ল্যান্ট পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী জাহাজটি কুতুবদিয়ায় নোঙর করেছে এবং লাইটারিংয়ের প্রস্তুতি আগে থেকেই নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, আরও এক লাখ টন অপরিশোধিত তেলবাহী ‘নর্ডিকস পলাক্স’ নামের আরেকটি জাহাজ বর্তমানে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা রয়েছে। হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির কারণে সেটির আগমন বিলম্বিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় রিফাইনারি ইস্টার্ন রিফাইনারি শতভাগ আমদানিকৃত ক্রুড অয়েলের ওপর নির্ভরশীল। সরকার জি-টু-জি চুক্তির আওতায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এই তেল আমদানি করে থাকে, যা পরিবহন করে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিএসসি।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় ঝুঁকি বাড়লেও বিকল্প রুট ব্যবহার করে আমদানি অব্যাহত রাখা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ।
আর/

