কওমি মাদ্রাসাসমূহে শাপলা গণহত্যা নিয়ে আলোচনা ও পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে বেফাকে স্মারকলিপি পেশ

নিয়মিত আলোচনা ও স্মরণানুষ্ঠানের আহ্বান; নিরপেক্ষ ও প্রামাণ্য ইতিহাস প্রণয়নের তাগিদ

by ABDUR RAHMAN
কওমি মাদ্রাসাসমূহে শাপলা গণহত্যা নিয়ে আলোচনা

ঢাকায় বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের কার্যালয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে শাপলা স্মৃতি সংসদ। এতে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনাকে কওমি মাদ্রাসার পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ওই দিনের ঘটনা দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হলেও তা এখনো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে নতুন প্রজন্ম এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ধারণা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
banner

সংগঠনটি মনে করে, কওমি মাদ্রাসাগুলো শুধু ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্র নয়; বরং ইতিহাস, মূল্যবোধ ও চেতনা সংরক্ষণের ক্ষেত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এই ঘটনাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হলে শিক্ষার্থীরা বিষয়টির প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করবে।

তারা আরও দাবি জানায়, প্রতি বছর মে মাসে দেশের সব কওমি মাদ্রাসায় আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা উচিত, যাতে বিষয়টি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্মরণীয় হয়ে থাকে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ওই সময় ধর্মীয় অনুভূতি ও বিশ্বাসের প্রশ্নে দেশজুড়ে মানুষ শাপলা চত্বরে সমবেত হয়েছিলেন। অংশগ্রহণকারীদের কাছে এটি ছিল শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি এবং তাদের বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ।

সংগঠনের মতে, পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ জাতীয় জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। এ কারণে বিষয়টির নিরপেক্ষ, তথ্যভিত্তিক ও প্রামাণ্য মূল্যায়ন সময়ের দাবি।

শাপলা স্মৃতি সংসদের চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হকের স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিটি সংগঠনের নির্বাহী সভাপতি মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী ও সহ-সভাপতি মাওলানা ইলিয়াস হামিদী বেফাকের প্রধান পরিচালক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদবীর কাছে হস্তান্তর করেন।

সংগঠনের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের নেতৃত্ব বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ