২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহীদদের স্মরণ, ইতিহাসের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস আয়োজন করেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী চিত্র প্রদর্শনী— “শাপলার শহীদচিত্র: অদেখা সত্যের ফ্রেম”। রাজধানীর শাহবাগ জাদুঘরের নলিনীকান্ত অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সংগঠনের আমির মাওলানা মামুনুল হক।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “আগামীর রাজনীতি শাপলার চেতনাকে ধারণ করেই গড়ে উঠবে। ২০১৩ সালে যারা শাহাদাত বরণ করেছেন, তারা এই বাংলার সূর্য সন্তান। তাদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে সত্য ও ন্যায়ের পথে উদ্বুদ্ধ করবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইতিহাসের বিভিন্ন দিক নিয়ে সত্য অনুসন্ধান ও তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দেওয়া সময়ের দাবি।
ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. আব্দুল আজিজের নেতৃত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি। তিনি প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে বলেন, “শাপলার ঘটনাকে ঘিরে যে আলোচনা ও গবেষণা হচ্ছে, তা সত্য উদঘাটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই সত্য সামনে আসুক এবং বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক।” তিনি এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লেখক ও গবেষক মঞ্জুর আহমেদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)এর মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, শাপলা স্মৃতিসৌধের সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল উদ্দিন, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তাফাজ্জুল হক মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমেদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসনাত জালালী এবং বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামানসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ও সচেতন নাগরিকরা।
প্রদর্শনীতে বিভিন্ন আলোকচিত্র, তথ্যচিত্র, ডকুমেন্টেড উপস্থাপনা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার মাধ্যমে ঘটনাটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
আয়োজকরা জানান, এই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য হলো— ইতিহাসের আলোচনাকে গবেষণাভিত্তিক ও প্রমাণনির্ভর করা, পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে সচেতন ও চিন্তাশীল করে তোলা। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে আয়োজন করা হবে।

