কুবিতে সিন্ডিকেট সভা ঘিরে উত্তেজনা, ছাত্রদলের হুমকির অভিযোগ

উপাচার্যকে চাপ, স্থগিত প্রমোশনে ক্ষতিগ্রস্ত ২৫ শিক্ষক-কর্মকর্তা; অভিযোগ অস্বীকার ছাত্রদলের

by ABDUR RAHMAN
কুবিতে সিন্ডিকেট সভা ঘিরে উত্তেজনা

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেট সভা না হওয়ায় অন্তত ২৫ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তার পদোন্নতি আটকে রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সময়মতো প্রমোশন না হওয়ায় তারা আর্থিক সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন
banner

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, সর্বশেষ ১০৮তম সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয় গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর। এরপর একাধিকবার সভার তারিখ নির্ধারণ করা হলেও নানা চাপের মুখে তা স্থগিত হয়ে যায়। আইন অনুযায়ী প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার সিন্ডিকেট সভা হওয়া বাধ্যতামূলক।

এদিকে, উপাচার্যের কার্যালয়ে গত ২৯ এপ্রিল এক বৈঠকে শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট সভা বন্ধ রাখতে চাপ প্রয়োগ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার এক পর্যায়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলী জানান, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ায় সিন্ডিকেট সভা করা বাধ্যতামূলক, অন্যথায় সরকারের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। তবে অভিযোগ রয়েছে, এ সময় কিছু নেতা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে সভা বন্ধ রাখার কথা বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, আসন্ন ১০৯তম সিন্ডিকেট সভা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, কারণ অনেক সদস্য কুমিল্লায় আসতে অনিচ্ছুক। ওই সভায় শিক্ষক আপগ্রেডেশন, নতুন সিলেবাস, শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা সহ প্রায় ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় থাকার কথা।

পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকদের মধ্যে বিভিন্ন বিভাগের সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপকরা রয়েছেন। তাদের দাবি, প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বোর্ড বারবার স্থগিত হওয়ায় ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতারা হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের বক্তব্য, তারা মূলত শিক্ষার্থীদের পরিবহন, নিরাপত্তা ও অন্যান্য সমস্যার বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলেন, সিন্ডিকেট বন্ধের বিষয়ে কোনো কথা বলেননি।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বৈঠকে সিন্ডিকেট ও নিয়োগ বোর্ড স্থগিত রাখার বিষয়ও আলোচনা হয়েছে। এতে প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ছে, যা শিক্ষা ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষক পদোন্নতি ও একাডেমিক সিদ্ধান্তগুলো দীর্ঘসূত্রতায় পড়ছে।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ