অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
২০১৩ সালের শাপলা চত্বরকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় ৫৮ জন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, তদন্তে এসব হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং ভুক্তভোগীদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ঘটনাটির সঙ্গে তৎকালীন সরকারের উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত মিলেছে। এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় একজন রয়েছেন। দীর্ঘ সময় পর এসব তথ্য সুসংগঠিতভাবে সামনে আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, পুরো ঘটনার প্রায় ৯০ শতাংশ তদন্ত ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৭ জুনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এ মামলায় ৩০ জনের বেশি ব্যক্তিকে আসামি করা হতে পারে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৩ সালের ৫ মে, যখন হেফাজতে ইসলাম ‘ঢাকা অবরোধ’ কর্মসূচি ঘোষণা করে। পবিত্র কোরআন ও মহানবী (সা.)-এর প্রতি অবমাননার প্রতিবাদ এবং ১৩ দফা দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো আলেম, মাদরাসাশিক্ষার্থী ও সমর্থক রাজধানীতে সমবেত হন এবং মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান নেন।
দিনভর উত্তেজনার পর মধ্যরাতে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হলে পরিস্থিতি দ্রুত সহিংস হয়ে ওঠে। গুলি, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের মধ্যে সমাবেশ ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।
এ ঘটনার নিহতের সংখ্যা নিয়ে শুরু থেকেই মতভেদ রয়েছে। ২০২৫ সালে হেফাজতে ইসলাম ৯৩ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করে। এর আগে ২০২১ সালে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার ৬১ জনের নাম সংগ্রহের কথা জানায়, আর ২০১৪ সালের ‘শহিদনামা’ গ্রন্থে ৪১ জন নিহতের তথ্য উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার ১৩ বছর পরও বিচার সম্পন্ন না হলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিষয়টি আবার সামনে এসেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়, যেখানে মোট ৫৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী, নিরাপত্তা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমানে কয়েকজন অভিযুক্ত কারাগারে রয়েছেন এবং বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট পক্ষের আশা, চলমান তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে শাপলা চত্বরের ঘটনায় দায়ীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
আর/

