রাষ্ট্রপতিকে “দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ ও মিথ্যুক” হিসেবে উল্লেখ করে সংসদে তীব্র সমালোচনা নাহিদ ইসলামের

রাষ্ট্রপতির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান, দুর্নীতি ও বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ালেন নাহিদ ইসলাম

by ABDUR RAHMAN
সংসদে নাহিদ ইসলাম

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সরাসরি রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বলেছেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে থাকার বা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।

বিজ্ঞাপন
banner

তিনি স্পষ্ট করে জানান, রাষ্ট্রপতির দেওয়া ভাষণ তারা শুনেননি এবং পড়েননি। সেই বক্তব্য দেওয়ার সুযোগও তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার মতে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার নৈতিক অবস্থান ইতোমধ্যেই হারিয়েছেন তিনি।

সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রপতির অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, দুদকের কমিশনার থাকাকালে তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলায় প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে।

তার বক্তব্যে আরও উঠে আসে, ব্যাংকিং খাতের বড় ধরনের অনিয়ম, বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক সংক্রান্ত বিতর্কেও রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলীতেও তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এমন একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে রাখা দেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। তিনি তাকে “দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ ও মিথ্যুক” হিসেবে উল্লেখ করে সংসদে তীব্র সমালোচনা করেন।

রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিএনপি ও জামায়াতের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন। দীর্ঘদিনের এই জোট রাজনীতির কারণে দেশে বিভাজন তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একইসঙ্গে স্বাধীনতার এত বছর পরও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ বিভাজন থাকা উচিত নয় বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি হলেও এর নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের লুটপাট বা স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষায়, সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান মুক্তিযুদ্ধের চেতনারই এক নতুন রূপ।

সংবিধান প্রসঙ্গেও সমালোচনামূলক অবস্থান তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সংবিধান গণতান্ত্রিকভাবে প্রণীত হয়নি এবং এতে স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতার বীজ রয়েছে। এ অবস্থায় সংবিধান পুনর্লিখনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে গণভোট, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

সর্বশেষে তিনি সবাইকে বিভাজনের রাজনীতি থেকে বের হয়ে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ