আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, কারণ গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি এখনও কার্যত বন্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে।
মার্কিন প্রশাসন এখন এই সংকট মোকাবেলায় একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশকে আহ্বান জানাচ্ছে যাতে তারা নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে একযোগে কাজ করে। প্রস্তাবিত এই উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে তথ্য বিনিময়, কূটনৈতিক সমন্বয় এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান-এ হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত এখনো থামেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের উত্তেজনার জন্ম দেয়, যার প্রভাব সরাসরি পড়ে জ্বালানি বাজারে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।
সংঘাতের জেরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে নৌ অবরোধ জোরদার করেছে। এতে ইরানের তেল রপ্তানি সীমিত হয়ে পড়েছে। পাল্টা হিসেবে তেহরান সতর্ক করেছে—চাপ অব্যাহত থাকলে তারা কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে নতুন করে সীমিত কিন্তু শক্তিশালী হামলা চালানো হতে পারে। এই সম্ভাবনা বাজারে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
এর প্রভাব হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। বছরের শুরু থেকে তেলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে, যা অনেক দেশের জন্য অর্থনৈতিক চাপ ও মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তুলছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান আলোচনার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। যদিও এখনো কোনো কার্যকর সমাধান সামনে আসেনি, তবে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে।
অন্যদিকে, ইরানের অর্থনীতিতেও চাপ বাড়ছে। দেশটির মুদ্রার মান কমে গেছে এবং মূল্যস্ফীতি ৬৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগও বাড়ছে, কারণ ইরানের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে না দিলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার ঝুঁকি আরও বাড়বে।
আর/

