অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচির শুরুতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে ভোলা রোডসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রধান ফটকে এসে শেষ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন হাদির ছোট বোন শরীফ মাসুমা হাদি, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব ইফতেখার সায়েম, মো. বেলাল হোসেন, আল ইমরান, মো. আমির হোসেন হাওলাদার, রাশেদুল ইসলাম শিকদার, সিরাজুল ইসলামসহ অন্যরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মো. ফরহাদ হোসাইন।
সমাবেশে মাসুমা হাদি বলেন, তারা কাঁদতে নয়, বিচারের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন। বিচার নিয়েই ঘরে ফিরবেন বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, ওসমান হাদি এমন একজন মানুষ ছিলেন যিনি শত্রুকেও ইনসাফ দিতে চেয়েছিলেন, অথচ আজ তার নিজের হত্যার বিচারই হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের সহযোগিতায় দেশের ‘মীরজাফরদের’ মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এবং হত্যার পর খুনিরা ভারতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। রাষ্ট্রকে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, অভিযুক্ত ফয়সাল টাকার বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে এবং এর পেছনে পরিকল্পনাকারীদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব ইফতেখার সায়েম বলেন, আধিপত্যবাদবিরোধী নেতা ওসমান হাদিকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হলেও বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তিনি অভিযোগ করেন, তদন্ত প্রতিবেদন একাধিকবার পেছানো হয়েছে, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতিকেই সামনে আনে।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা দৃশ্যমান নয়। দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে দেশজুড়ে আরও বড় আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সমাবেশে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী এবং ওসমান হাদির পরিবারের সদস্যরা।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। পরে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সেখানে তিনি মারা যান।
আর/

