গাজা যুদ্ধের মাঝেই ইসরায়েলে গোপনে তেল, কয়লা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে গ্রিক জাহাজ

‘নো হারবার ফর জেনোসাইড’ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ, ২০২৪–২৫ সালে অন্তত ৫৭টি তেলবাহী চালান এবং ১৩টি সামরিক সরঞ্জাম চালান গোপনভাবে পৌঁছেছে

by ABDUR RAHMAN

গাজা উপত্যকায় চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যেই ইসরায়েলের কাছে তেল, কয়লা ও সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছে দিচ্ছে গ্রিক শিপিং কোম্পানিগুলো। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’ এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের মে থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত ৫৭টি অপরিশোধিত তেলের চালান গোপনে ইসরায়েলি বন্দরে খালাস করা হয়েছে। প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল তেল তুরস্কের মাধ্যমে পাঠানো হলেও, জাহাজগুলো তুরস্কের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে ট্র্যাকিং সিগন্যাল বন্ধ রাখত এবং গন্তব্য হিসেবে মিশরের পোর্ট সাইদ-এর নাম ব্যবহার করত।

বিজ্ঞাপন
banner

শুধু তেল নয়, ২০২৫ সালে অন্তত ১৩টি চালানে গ্রিক জাহাজগুলো ইসরায়েলের বড় অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘এলবিট সিস্টেমস’-এর জন্য গোলাবারুদ, মেশিনগানের যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম বহন করেছে। বিশেষ করে ‘কন্টশিপ এরা’ এবং ‘মার্লা বুল’ নামক জাহাজগুলো এ কাজে লিপ্ত ছিল।

দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে মোট ৭ লাখ ৫১ হাজার টন কয়লা ইসরায়েলে পাঠানো হয়েছে, যা দেশটির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সচল রাখতে ব্যবহৃত হচ্ছে। জাহাজগুলো ধরা পড়ার ভয়ে ট্র্যাকিং সিগন্যাল বন্ধ রাখত এবং গন্তব্য হিসেবে মিশরের ‘দামিয়েত্তা’ বন্দরের নাম ব্যবহার করত।

এই গোপন বাণিজ্যের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো সোচ্চার হয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে গ্রিসের পিরেয়াস বন্দরে ডক শ্রমিকরা ২১ টন গোলাবারুদ বোঝাই জাহাজ আটকে দিয়েছিল এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ফ্রান্সের ডক শ্রমিকরা ১৮ টন কামানের ব্যারেল লোড করতে বাধা প্রদান করেছে।

‘প্রগ্রেসিভ ইন্টারন্যাশনাল’-এর লায়লা হাজাইনেহ বলেন, “প্রতিবেদন প্রমাণ করে যে ইসরায়েলের যুদ্ধ বিচ্ছিন্ন নয়। কোম্পানি, বন্দর ও সরকারগুলোর একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এই গণহত্যায় জ্বালানি ও অস্ত্র সরবরাহ করছে।”

বিডিএস আন্দোলনের সদস্য মারেন মান্টোভানি গ্রিক জনগণের প্রতি আহ্বান জানান, “গ্রিক শিপিং রাজবংশ ফিলিস্তিনিদের রক্তে মুনাফা করছে। সরকারকে চাপ দিয়ে ইসরায়েলের সাথে সব বাণিজ্য ও সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করা প্রয়োজন।”

এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত শিপিং কোম্পানিগুলো পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ