যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা–বিষয়ক কমিশন USCIRF ভারতের পরিস্থিতি ‘বিশেষ উদ্বেগজনক দেশ’ (CPC) হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কমিশনের ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি আরও অবনতির মুখে পড়েছে এবং সরকার ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও তাদের উপাসনালয়গুলোকে লক্ষ্য করে বৈষম্যমূলক আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী মুসলিম ও খ্রিস্টানদের হয়রানি, উসকানি এবং সহিংসতার ঘটনা ঘটিয়েছে। বিশেষ করে মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, কাশ্মীর, কর্ণাটক, উত্তর প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায়শই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
কমিশন সুপারিশ করেছে যে, ভারতীয় রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (RSS) এবং গোয়েন্দা সংস্থা ‘Research and Analysis Wing’–এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হোক। এতে উভয় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ জব্দ এবং মার্কিন মাটিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, ভারতে সরকার ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও শরণার্থীদের ওপর নজরদারি, আটক ও বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মে মাসে ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মিয়ানমারের উপকূলে লাইফজ্যাকেট ছাড়া সাঁতরে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। জুলাই মাসে আসাম থেকে শত শত বাংলাভাষী মুসলিমকে বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগও উঠেছে।
কমিশন ট্রাম্প প্রশাসনকে এই বিষয়ে সুপারিশ করেছে যে, ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতিকে অস্ত্র বিক্রি ও বাণিজ্য নীতির সঙ্গে যুক্ত করা হোক।
ইউএসসিআইআরএফের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের পাশাপাশি চীন, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার মতো ১৮টি দেশের নামও এই তালিকায় রয়েছে।
আর/

