রাসুল সা.-এর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ সময়: জুমার দিনের দরুদ

by NUR ALAM

জুমাবার অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। এ দিনকে সাপ্তাহিক ঈদ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে এবং পবিত্র কুরআনেও ‘আল-জুমা’ নামে একটি স্বতন্ত্র সুরা রয়েছে। জুমার দিনে মুমিনদের জন্য বিশেষ কিছু আমলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ সা.-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা।

‘তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো, কেননা তোমাদের পাঠকৃত দরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়। (আবু দাউদ: ১০৪৭)

বিজ্ঞাপন
banner

হাদিসে কুদসিতে মহানবী সা. ইরশাদ করেছেন—

‘তোমরা জুমার দিনে বেশি বেশি দরুদ পড়ো। কারণ, জিব্রাইল আ. এইমাত্র আল্লাহ তায়ালার বাণী নিয়ে হাজির হলেন। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “পৃথিবীতে যখন কোনো মুসলমান আপনার ওপর একবার দরুদ পড়ে, আমি তার ওপর দশবার রহমত নাজিল করি এবং আমার সব ফেরেশতা তার জন্য দশবার ইস্তেগফার করে।’’ (তারগিব: ৩/২৯৯)

জুমার দিনের এই বিশেষ আমল সম্পর্কে হজরত আবু হুরায়রা রা. বর্ণিত হাদিসে আল্লাহর রাসুল সা. আরো ইরশাদ করেন—

‘যে ব্যক্তি জুমার দিন আসর নামাজের পর ওই স্থানে বসা অবস্থায় ৮০ বার নিম্নে উল্লেখিত দরুদ শরিফ পাঠ করবে, তার ৮০ বছরের গুনাহ মাফ এবং ৮০ বছরের নফল ইবাদতের সওয়াব তার আমলনামায় লেখা হবে’ (আফদালুস সালাওয়াত: ২৬)। দরুদটি হলো—

اللهم صل على محمد النبي الأمي وعلى آله وسلم تسليمًا

‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলা আলিহী ওয়াসাল্লিম তাসলীমা’

অন্য হাদিসে হজরত আলি রা. বর্ণনা করেন, ‘যে ব্যক্তি নবী কারিম সা.-এর ওপর জুমার দিন ১০০ বার দরুদ পাঠ করে, সে কেয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উঠবে যে, তার চেহারায় নূরের জ্যোতি দেখে লোকেরা বলাবলি করতে থাকবে এই ব্যক্তি কী আমল করেছিল!’ (কানজুল উম্মাল: ১৭৪)

আবু উমামা রা. বর্ণিত হাদিসে রাসুল সা. বলেন, ‘আমার ওপর জুমার দিন বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কারণ আমার উম্মতের দরুদ জুমার দিন আমার কাছে পৌঁছানো হয়। যে ব্যক্তি আমার ওপর সবচেয়ে বেশি দরুদ পাঠাবে, সে ব্যক্তি কেয়ামতের দিন সবচেয়ে আমার নিকটতম হবে।’ (তারগিব: ১৫৭)

সুতরাং হাদিসে উল্লেখিত ফজিলত লাভের জন্য বিশেষ করে জুমার দিনে বেশি বেশি দরুদ পাঠ সকল মুসলমানের জন্য বাঞ্ছনীয়। অন্য দিনেও দরুদ পাঠের গুরুত্ব অসীম। আল্লাহর রহমত পেতে হলে রাসুলুল্লাহ সা.-এর ওপর দরুদ পড়ার বিকল্প নেই।

মহান আল্লাহও প্রিয়নবীর ওপর দরুদ অবতীর্ণ করেন, ফেরেশতারাও নবী সা.-এর প্রতি রহমত ও বরকত কামনা করেন। ‘হে মুমিন! তোমরাও তার ওপর দরুদ পাঠ করো এবং সালাম প্রেরণ করো।’ (সুরা আহজাব: ৫৬)

হাদিসে বর্ণিত অসংখ্য ফজিলতের কারণে জুমার দিনে বিশেষভাবে দরুদ পাঠ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দরুদ পাঠের মাধ্যমে গুনাহ মাফ, আল্লাহর রহমত লাভ এবং রাসুলুল্লাহ সা.-এর নৈকট্য অর্জনের সুসংবাদ রয়েছে। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত জুমার দিনসহ প্রতিদিন প্রিয়নবী সা.-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার অভ্যাস গড়ে তোলা।

এনএ/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ