জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা: গ্রেপ্তার মেজর মোজাফফরের বিচার হবে সেনা আদালতে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা— জেনারেল কোর্ট মার্শালে হবে বিচার; একই অপরাধে দুই আইনে বিচার সম্ভব নয়। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে মিয়ানমার সীমান্তে ১০৯ কিলোমিটার কাঁটাতারের পরিকল্পনার কথাও জানালেন তিনি।

by ABDUR RAHMAN
জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইন অনুযায়ী হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, একই অপরাধে একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুই ভিন্ন আইনে বিচার হতে পারে না। তাই তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে বিচার সম্পন্ন হবে।

বিজ্ঞাপন
banner

সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্য আসামিদের বিচারও সামরিক আদালতে জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে হয়েছে। তবে মেজর (অব.) মোজাফফর দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় তার বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তিনি দীর্ঘ সময় ভিন্ন পরিচয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দেশে আত্মগোপনে ছিলেন বলে দাবি করেন মন্ত্রী। সম্প্রতি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগের মামলায় যেসব আসামির বিচার হয়েছে বা যাদের বিরুদ্ধে রায় কার্যকর হয়েছে, সেই রায়ে যদি মোজাফফর সম্পর্কে কোনো পর্যবেক্ষণ বা ফাইন্ডিংস থেকে থাকে, তাহলে জেনারেল কোর্ট মার্শাল তা বিবেচনায় নেবে। সেনা আইনের বিধান অনুযায়ীই পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

তিনি আরও বলেন, যদি এ ঘটনায় সিভিল কোর্টের আওতাভুক্ত কোনো বিষয় থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। তবে একই ব্যক্তিকে একই ঘটনায় পৃথক দুই আইনে বিচার করার সুযোগ নেই।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার সীমান্ত বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আরাকান আর্মি, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্তেও পড়ছে। এ কারণে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে সরকার ১০৯ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। পাশাপাশি ল্যান্ড মাইন শনাক্তে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ভারত থেকে কথিত ‘পুশ-ইন’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত অধিকাংশ অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের নাগরিক হন, তাহলে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় তার তালিকা পাঠাতে হবে। জাতীয়তা যাচাই শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্য কোনো উপায়ে কাউকে গ্রহণ করা হবে না।

বিজিবির সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সীমান্তে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, আধুনিক সরঞ্জাম সংগ্রহ, জনবল বৃদ্ধি, ডগ স্কোয়াডের ব্যবহার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাহসিকতা ও বিশেষ অবদানের জন্য বিজিবি সদস্যদের পদকের পাশাপাশি অতিরিক্ত স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়েও সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ