ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে আবারও করোনা সংক্রমণ, ৮ জন আক্রান্ত; মৃত্যু ২

কাদাপা জেলায় জোরদার নজরদারি, জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে নমুনা; স্বাস্থ্যবিধি মানতে বিশেষ নির্দেশ প্রশাসনের।

by ABDUR RAHMAN
ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে আবারও করোনা সংক্রমণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে নতুন করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগ তৈরি করেছে। রাজ্যের ওয়াইএসআর কাদাপা জেলায় এখন পর্যন্ত আটজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

বিজ্ঞাপন
banner

জেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কাদাপায় আটজন সক্রিয় করোনা রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি, নমুনা সংগ্রহ এবং করোনা পরীক্ষা জোরদার করা হয়েছে। ভাইরাসের ধরন শনাক্ত করতে কয়েকটি নমুনা জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য পুনের একটি পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

মারা যাওয়া ব্যক্তিদের একজন কাদাপার রাজামপেট এলাকার ৫২ বছর বয়সী বাসিন্দা। জ্বর ও কাশির উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তার করোনা শনাক্ত হয়। পরে ভেলোরের ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

অন্যদিকে, ৪৩ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তি শারীরিক জটিলতা নিয়ে কাদাপার সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে পরীক্ষায় তার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। পরে হাসপাতালের করোনা আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে কাদাপা মেডিকেল কলেজের ২৫ বছর বয়সী এক মেডিকেল শিক্ষার্থীর শরীরেও করোনা শনাক্ত হয়েছে। তিনি বর্তমানে নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

নতুন সংক্রমণের পর আক্রান্ত এলাকাগুলো থেকে প্রায় ৪০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে, আর বাকি নমুনার ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্ধ্র প্রদেশের জেলা-দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সাভিথা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আক্রান্ত এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং হাসপাতালগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ ছাড়া হাসপাতাল এবং জনসমাগমপূর্ণ স্থানে মাস্ক ব্যবহারে জোর দেওয়া হয়েছে। জ্বর, কাশি কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানো এবং প্রয়োজন হলে আইসোলেশনে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখনও বিচ্ছিন্নভাবে কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঘটনা সামনে আসছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার পর্যবেক্ষণে নিয়মিত নজরদারি, জিনোম সিকোয়েন্সিং এবং দ্রুত শনাক্তকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী মজুত রাখার নির্দেশনা অব্যাহত রেখেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ