তিন বিলে এবি পার্টির গভীর উদ্বেগ: ওলামাদের মতামত ও স্বাধীন তদন্তের দাবি

গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন ও সম্পত্তি হস্তান্তর বিলকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার আহ্বান

by ABDUR RAHMAN
তিন বিলে এবি পার্টির গভীর উদ্বেগ

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিল, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন—এই তিনটি প্রস্তাবিত আইন নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটি মনে করে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষাকে ধারণ করে রাষ্ট্রীয় নির্যাতন, গুম ও স্বৈরাচারের অবসান ঘটাতে হলে এই আইনগুলোকে আরও স্বচ্ছ, স্বাধীন ও জনবান্ধব করা জরুরি।

বিজ্ঞাপন
banner

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এক যৌথ বিবৃতিতে এই দাবিসমূহ তুলে ধরেন।

বিবৃতিতে এবি পার্টির নেতারা বলেন, অতীতের গুমের ঘটনায় যেসব বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের হাতে কোনো অবস্থাতেই তদন্তভার সোপর্দ করা সঠিক হবে না। একটি একক বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে সম্পূর্ণ স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশেষায়িত তদন্ত প্রক্রিয়া গড়ে তোলার জোর দাবি জানান তারা। একই সাথে কেবল প্রত্যক্ষ জড়িত ব্যক্তিই নয়, বরং গুমের নির্দেশদাতা, নির্দেশ পালনকারী এবং কমান্ড দায়ে থাকা সবাইকে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকার আইনে নিশ্চিতের তাগিদ দেন তারা।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রসঙ্গে নেতারা বলেন, কমিশনকে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন ও প্রভাবমুক্ত করতে হবে। কোনো পূর্বানুমতি ছাড়াই সম্ভাব্য সকল গোপন আটককেন্দ্রসহ হেফাজতস্থল পরিদর্শনের একচ্ছত্র অধিকার, নিজস্ব তদন্ত দল, স্বাধীন বাজেট ও প্রয়োজনীয় জনবল প্রদান নিশ্চিত করা আবশ্যক।

এদিকে সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিল নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করে এবি পার্টি জানায়, বাবা-মায়ের আবাসন ও অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি মানবিক হলেও দেখতে হবে এই আইন যেন ইসলামি শরীয়াহ বা মুসলিম আইনের সাথে সাংঘর্ষিক না হয়। এ ক্ষেত্রে দেশের শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের মতামতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

তারা আরও উল্লেখ করেন, সম্পত্তির মালিকানা ও ভোগাধিকার আলাদা করা হলে ভবিষ্যতে জমি বিক্রি, বন্ধক, কর প্রদান বা উত্তরাধিকার নিয়ে নতুন পারিবারিক বিরোধের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই হেবা, দান ও বিদ্যমান আইনের সাথে সমন্বয় রেখে স্পষ্ট এবং বাস্তবায়নযোগ্য আইন প্রণয়নের আহ্বান জানায় দলটি।

নেতৃদ্বয় স্পষ্ট করেন, নতুন বাংলাদেশে রাষ্ট্রের কোনো শক্তি বা ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করে মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই হবে সকল আইনের মূল লক্ষ্য।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ