বাংলাদেশের ২১ জেলা নিয়ে ‘বঙ্গভূমি’র দাবি, কলকাতায় বঙ্গসেনার মিছিল

শিয়ালদহ থেকে রাজপথে মিছিল; বাংলাদেশের কয়েকটি জেলা নিয়ে দাবি ও জাতিসংঘে চিঠি দেওয়ার কথা জানাল সংগঠনটি

by ABDUR RAHMAN
বাংলাদেশের ২১ জেলা নিয়ে ‘বঙ্গভূমি’র দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ‘বঙ্গভূমি’ প্রতিষ্ঠার দাবিতে মিছিল করেছে বঙ্গসেনা নামের একটি সংগঠন। জনবহুল শিয়ালদহ এলাকা থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি বিভিন্ন স্লোগান ও ব্যানার নিয়ে রাজপথ প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে নারী সদস্যদেরও অংশ নিতে দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন
banner

মিছিলকারীদের হাতে থাকা ব্যানার ও পোস্টারে ‘বঙ্গভূমি’ প্রতিষ্ঠার দাবির পাশাপাশি বাংলাদেশের ভূখণ্ড নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরা হয়। তাদের একটি স্লোগান ছিল, ‘বঙ্গসেনা দিচ্ছে ডাক, বাংলাদেশকে কর ভাগ’। আরেকটি স্লোগানে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনাকে নিজেদের ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সংগঠনটির প্রচারপত্র ও ব্যানার থেকে তাদের সাংগঠনিক কাঠামো সম্পর্কেও কিছু তথ্য পাওয়া যায়। সেখানে প্রস্তাবিত ‘বঙ্গভূমি’ আন্দোলনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পার্থ সামন্ত, সেনাধ্যক্ষ হিসেবে নারায়ণ দাস এবং প্রধান মুখপাত্র হিসেবে সুভাষ মজুমদারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

পার্থ সামন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে সুভাষ মজুমদার দাবি করেন, নানা কারণে তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং আপাতত প্রকাশ্যে আসতে চান না।

মিছিল চলাকালে সুভাষ মজুমদার নিজেকে বঙ্গসেনার মুখপাত্র হিসেবে পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, এ কারণেই তারা ‘বঙ্গভূমি’ প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছেন।

মজুমদারের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, পটুয়াখালী, কুষ্টিয়া ও বরিশাল—এই ছয়টি জেলা নিয়ে প্রথম পর্যায়ে ‘বঙ্গভূমি’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, এ বিষয়ে জাতিসংঘের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে সংগঠনটি বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে।

পরবর্তী সময়ে টেলিফোনে দেওয়া বক্তব্যে মজুমদার তাদের দাবির পরিধি আরও বিস্তৃত করার কথা বলেন। তার দাবি, বাংলাদেশের মোট ২১টি জেলা নিয়ে তাদের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি রংপুরকেও প্রস্তাবিত ‘বঙ্গভূমি’র অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তোলার কথা জানান তিনি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড দাবি করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বঙ্গসেনার সেনাধ্যক্ষ হিসেবে পরিচয় দেওয়া নারায়ণ দাস জানান, তাদের কথিত হেডকোয়ার্টার্স ভারতের আসামের কার্বি আংলং জেলায়। ত্রিপুরা, উত্তরপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়েও সংগঠনটির উপস্থিতি রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে সংগঠনের সদস্যদের কোথায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি এবং বিষয়টিকে সাংগঠনিক গোপনীয়তা হিসেবে উল্লেখ করেন।

নারায়ণ দাস ও সুভাষ মজুমদার দুজনেই বাংলাদেশের কয়েকটি হিন্দু সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার দাবি করেছেন। ‘হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ’-এর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণ দাসও যোগাযোগ থাকার কথা বলেন। তবে এসব যোগাযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সমস্যায় পড়তে পারেন বলে তিনি দাবি করেন।

এ ছাড়া সংগঠনটির নেতারা দাবি করেন, বাংলাদেশের বর্তমান ভূখণ্ডের বড় একটি অংশ একসময় হিন্দুদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সেই ভূখণ্ডের একটি অংশ নিয়েই তারা ‘বঙ্গভূমি’র দাবি তুলেছেন। তবে এসব দাবি সংগঠনটির নিজস্ব বক্তব্য; প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে এর সত্যতা যাচাই করা হয়নি।

মিছিলে বঙ্গসেনার সদস্যদের নির্দিষ্ট পোশাকও চোখে পড়ে। সংগঠনটির পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি নারী সদস্যদের বড় একটি অংশকে লাল পোশাকে দেখা যায়। অনেক নারী লাল শাড়ি পরে ব্যানার ও পোস্টার হাতে মিছিলে অংশ নেন।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ