এলএনজি কার্গো না থাকায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ, ফের বাড়ছে গ্যাস সংকট

মহেশখালী থেকে সরবরাহ বন্ধ; জাতীয় গ্রিডে এখন ভরসা শুধু সামিটের টার্মিনাল, নতুন কার্গো আসতে পারে ২৩-২৪ আগস্ট

by ABDUR RAHMAN
এলএনজি কার্গো না থাকায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

এলএনজি কার্গো না থাকায় কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরের পর টার্মিনালটির মজুত এলএনজি শেষ হয়ে গেলে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এখন মূলত সামিটের টার্মিনালের ওপরই এলএনজি সরবরাহের চাপ পড়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, বুধবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে এক্সিলারেটের টার্মিনালে থাকা শেষ মজুত এলএনজিও শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে টার্মিনালটি আর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করতে পারেনি।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত মহেশখালীর দুই ভাসমান টার্মিনাল মিলিয়ে প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছিল। এক্সিলারেট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এখন সামিটের টার্মিনাল থেকে প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ১২টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় ২ হাজার ২৮৯ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় কূপ থেকে আসে ১ হাজার ৬২৮ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে ৬৬১ মিলিয়ন ঘনফুট। সন্ধ্যা ৬টার দিকে এলএনজি সরবরাহ কমে দাঁড়ায় ৫৬২ মিলিয়ন ঘনফুটে। একই সময়ে দেশীয় গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় ১ হাজার ৬২৭ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে মোট গ্যাস প্রবাহ নেমে আসে প্রায় ২ হাজার ১৮৯ মিলিয়ন ঘনফুটে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার মূল কারণ নতুন এলএনজি কার্গো না পাওয়া। এর আগে টার্মিনালের বয়লার মেরামত নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। এক্সিলারেট কর্তৃপক্ষ বয়লার সচল করতে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছিল। পরে বয়লার সচল হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও টার্মিনাল চালু রাখার মতো পর্যাপ্ত এলএনজি মজুত ছিল না।

ফলে কারিগরি সক্ষমতা ফিরলেও পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়নি।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ২৩ আগস্ট সিঙ্গাপুর থেকে একটি এলএনজিবাহী জাহাজ রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে সেটি ঠিক কবে বাংলাদেশে পৌঁছাবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে নতুন কার্গো না আসা পর্যন্ত এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।

এবারের সংকটের আগে গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর কারিগরি ত্রুটির কারণে টার্মিনালটি দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। ৬ আগস্টের দিকে সেটি আংশিকভাবে চালু হলেও পুরো সক্ষমতায় ফিরতে সময় লাগছিল। ওই সময় টার্মিনাল বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গিয়েছিল।

এদিকে গত ১৩ আগস্ট উত্তাল সাগরের কারণে সামিটের এলএনজি সরবরাহও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছিল। পরে ১৪ আগস্ট সন্ধ্যা থেকে সামিট আবার প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু করে।

ফলে সামিটের সরবরাহ পুনরায় সচল হওয়ার পর কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও এক্সিলারেট আবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই স্বস্তি দ্রুতই ফিকে হয়ে যাচ্ছে।

দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো। এর মধ্যে এলএনজি থেকে বড় একটি অংশ আসে। ফলে দুটি ভাসমান টার্মিনালের যেকোনো একটির সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলেই জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় তাৎক্ষণিক চাপ তৈরি হয়।

মহেশখালীর দুই ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সম্মিলিত সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে একটি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে গেলে ঘাটতি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহের জন্য ওমান ও কাতারের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ের (জিটুজি) চুক্তি রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর বিভিন্ন চাপের কারণে চুক্তিভিত্তিক সরবরাহেও বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনে ঘাটতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার।

চলতি মাসের শুরুতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার জরুরি ভিত্তিতে আটটি এলএনজি কার্গো কেনার অনুমোদন দিয়েছিল। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও ওমান থেকে কার্গো কেনার প্রস্তাব ছিল।

তবে নির্ধারিত সময়ে কার্গো না পৌঁছানোয় এখন আবার জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে।

এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সিএনজি স্টেশন এবং আবাসিক গ্রাহকদের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। এর আগে এলএনজি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যায় এবং শিল্প উৎপাদন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এক্সিলারেটের জন্য নতুন কার্গো দ্রুত না এলে আগামী কয়েক দিন গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে গ্যাসের চাপ কমে গেলে সামগ্রিক জ্বালানি সংকট আরও প্রকট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ