ইরানি হামলার ভয়ে খাবারের ট্রাকে করে গোপনে সামরিক বিমানে তুরস্ক ছাড়লেন ট্রাম্প

এয়ার ফোর্স ওয়ানকে ‘ডেকয়’ হিসেবে রেখে ছোট সামরিক বিমানে ব্রিটেনে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট, পরে সেখান থেকে ফেরেন ওয়াশিংটনে

by ABDUR RAHMAN
আমিই ইসরায়েলের সেরা প্রেসিডেন্ট- ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় তুরস্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নজিরবিহীন গোপনীয়তায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পকে প্রথমে প্রকাশ্যে এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখা গেলেও পরে গোপনে তাঁকে একটি ছোট সামরিক বিমানে স্থানান্তর করা হয়।

বিজ্ঞাপন
banner

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য উদ্ধৃত করে ঘটনাটি তুলে ধরা হয়েছে। জানা যায়, ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কে যাওয়ার পর দেশে ফেরার সময় প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তায় এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্ক থেকে ফেরার প্রস্তুতির সময় ট্রাম্প প্রকাশ্যে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন। কিন্তু বিমানে ওঠার কিছুক্ষণ পর তাঁকে পেছনের দরজা দিয়ে বের করে একটি ক্যাটারিং ট্রাকের মাধ্যমে বিমানবন্দরের অন্য একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে সি-৩২এ মডেলের একটি ছোট সামরিক বিমানে তোলা হয়।

অন্যদিকে, বড় এয়ার ফোর্স ওয়ানটিকে রাখা হয় সম্ভাব্য ‘ডেকয়’ হিসেবে। সাংবাদিক ও উপস্থিত অনেক কর্মকর্তার ধারণা ছিল, ট্রাম্প ওই বিমানেই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এমনকি যাত্রার সময় সাংবাদিকদের বিমানের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীতে ট্রাম্পকে বহনকারী ছোট সামরিক বিমানটি যুক্তরাজ্যের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে অবতরণ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটি রাত ১০টা ২০ মিনিটে যুক্তরাজ্যে পৌঁছায়। এর কিছু সময় পর সাংবাদিক ও কর্মীদের বহনকারী পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানও সেখানে অবতরণ করে।

তুরস্কে ন্যাটোর সম্মেলনে যোগ দিতে ট্রাম্প কাতারের উপহার দেওয়া নতুন বিমান ব্যবহার করেছিলেন। তবে ফেরার সময় তিনি হঠাৎ পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠেছেন—এমন দৃশ্য প্রকাশ্যে আসে। পরবর্তী সময়ে জানা যায়, এটি মূলত নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হতে পারে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প এর আগে জানিয়েছিলেন, পুরোনো স্মৃতির কারণে তিনি পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ভ্রমণ করছেন এবং নতুন বিমানটি মার্কিন সেনাসদস্যদের প্রদর্শনের জন্য যুক্তরাজ্যে থামানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের সুনির্দিষ্ট হুমকি পাওয়ার কারণেই নিরাপত্তা পরিকল্পনায় এমন গোপন কৌশল নেওয়া হয়েছিল। তুরস্কের সঙ্গে ইরানের সীমান্ত রয়েছে এবং ওই সময়ে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত ও উত্তেজনা বাড়ছিল—এমন প্রেক্ষাপটও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভ চ্যাউং বলেন, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বাধুনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুরা প্রেসিডেন্টের গতিবিধির ওপর নজর রাখছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে ট্রাম্পকে এভাবে গোপনে অন্য বিমানে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র: এনডিটিভি, রয়টার্স ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ