মাদক ও জুয়া বিতর্কে ফতুল্লা বিএনপি নেতা আরিফ মন্ডল

কাশীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফ মন্ডলকে ঘিরে বিতর্ক; অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি

by ABDUR RAHMAN
মাদক ও জুয়া বিতর্কে ফতুল্লা বিএনপি নেতা আরিফ মন্ডল

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কাশীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফ মন্ডলকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ফেনসিডিল সেবন ও জুয়া খেলার দুটি ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

বিজ্ঞাপন
banner

ছবিগুলো বেশ পুরোনো বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে একজন রাজনৈতিক নেতাকে এমন কর্মকাণ্ডে দেখা যাওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্ন ও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, আরিফ মন্ডল পারিবারিকভাবেই দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ছাত্রদলের ইউনিয়ন সভাপতি হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করার পর তিনি যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে যুবদলের জেলা বা কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সাংগঠনিক ধাপ অতিক্রম না করেই কাশীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পান বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এর আগে আরিফ মন্ডলের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। এমনকি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি অভিযানে ফেনসিডিলসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলেও স্থানীয় সূত্রের দাবি। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ বা আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক ছবির বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের বক্তব্য, একজন রাজনৈতিক নেতা মাদক ও জুয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হলে তা সমাজে নেতিবাচক বার্তা তৈরি করে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষায় দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলেও তারা মনে করছেন।

এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, ছবিগুলো এখনো তাঁর নজরে আসেনি। তবে কোনো নেতা ব্যক্তিগতভাবে অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তার দায় দল নেবে না। অভিযোগ তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে ফতুল্লা থানা বিএনপির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

শহিদুল ইসলাম টিটু আরও বলেন, বিএনপি গণমানুষের দল এবং জনগণের কল্যাণে রাজনীতি করে। দলের নীতির সঙ্গে মাদক ও সন্ত্রাসের কোনো আপস নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দলের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান রয়েছে। একই সঙ্গে জুয়া প্রতিরোধে আইনগত ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ফলে দলের কোনো নেতা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান ফতুল্লা থানা বিএনপির এই নেতা।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আরিফ মন্ডলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরিফ মন্ডলের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দলীয় তদন্তের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ