দারুল উলুম দেওবন্দে শিবমন্দিরের দাবি, অনুমতি ছাড়াই কর্মসূচির ঘোষণা হিন্দুত্ববাদীদের

চত্বরে শিবলিঙ্গ থাকার দাবি হিন্দু রক্ষা দলের, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা হলে ব্যবস্থা: পুলিশ

by ABDUR RAHMAN
দারুল উলুম দেওবন্দে শিবমন্দিরের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

ভারতের উত্তর প্রদেশের ঐতিহাসিক ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দে গঙ্গাজল নিবেদনের ঘোষণা দিয়েছে হিন্দু রক্ষা দল। প্রতিষ্ঠানটির চত্বরে একটি শিবলিঙ্গ বা শিবমন্দির রয়েছে—এমন দাবি তুলে সংগঠনটি এ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

গত শনিবার (৯ আগস্ট) এক ভিডিও বার্তায় কর্মসূচির ঘোষণা দেন হিন্দু রক্ষা দলের উত্তরাখণ্ড রাজ্য সভাপতি ললিত শর্মা। তার ঘোষণা অনুযায়ী, সংগঠনের জাতীয় সভাপতি পিঙ্কি চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল সদস্য ১১ আগস্ট হরিদ্বার থেকে গঙ্গাজল নিয়ে দেওবন্দে যাবেন এবং সেখানে তা নিবেদন করবেন।

ললিত শর্মার দাবি, দারুল উলুম দেওবন্দের প্রাঙ্গণে একটি শিবমন্দির রয়েছে—এমন অভিযোগের তদন্ত চেয়ে এর আগে সাহারানপুর প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছিল তাদের সংগঠন। তবে ওই আবেদনের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসনের কাছ থেকে ব্যবস্থা না পাওয়ায় সংগঠনটি নিজেরাই দেওবন্দে গিয়ে গঙ্গাজল নিবেদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে, হিন্দু সংগঠনটির ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিষয়টির সংবেদনশীলতা বিবেচনায় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

দেওবন্দ সার্কেলের পুলিশ কর্মকর্তা অমিত কুমার সিং জানিয়েছেন, কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে দেওয়া হবে না। কেউ পরিবেশ অশান্ত করার বা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

দারুল উলুম দেওবন্দ ভারতের অন্যতম ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটির প্রাঙ্গণ নিয়ে হিন্দু সংগঠনটির সাম্প্রতিক দাবি এবং সেখানে গঙ্গাজল নিবেদনের ঘোষণাকে ঘিরে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

তবে শিবলিঙ্গ বা শিবমন্দির থাকার যে দাবি সংগঠনটির পক্ষ থেকে করা হয়েছে, তা তাদের অভিযোগ ও দাবি হিসেবেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ দাবির স্বতন্ত্র সত্যতা সম্পর্কে প্রতিবেদনে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র: মুসলিম মিরর

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ