অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা ভারী বৃষ্টিতে নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্তঘেঁষা নদ-নদী দিয়ে প্রবল স্রোতে পানি ঢুকে অন্তত ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অনেক সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে, আর পুকুরের পাড় ভেঙে ভেসে যাচ্ছে চাষ করা মাছ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, কলমাকান্দার উপদাখালী নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অব্যাহত বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে জেলার প্রায় সব নদ-নদীর পানির স্তর বাড়ছে। একই সঙ্গে দুর্গাপুর উপজেলার গাওকান্দিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামও প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার গভীর রাত থেকে সীমান্তবর্তী নদীগুলো দিয়ে হঠাৎ করেই পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ শুরু হয়। রাতারাতি পানি বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। খারনই, রংছাতি ও লেঙ্গুরা ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মহাদেও, গণেশ্বরী ও মংলেশ্বরী নদী দিয়ে প্রবল বেগে পানি ঢুকে অন্তত ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানির স্রোতে কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
খারনই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক বলেন, গভীর রাত থেকেই মংলেশ্বরী নদ ও আশপাশের নালা দিয়ে দ্রুতগতিতে পানি প্রবেশ করছে। অনেক গ্রামের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে, কোথাও কোথাও বাড়িঘরের ভেতর দিয়েও পানি যাচ্ছে। কলমাকান্দা উপজেলা সদরের সঙ্গে খারনই ইউনিয়নের প্রধান সড়ক প্রায় ২০টি স্থানে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
রংছাতি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আনিসুর রহমান খান পাঠান জানান, মহাদেও নদ দিয়ে পানি প্রবেশের ফলে কয়েকটি গ্রামের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেক পুকুরের পাড় ডুবে যাওয়ায় মাছ ভেসে গেছে। একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন লেঙ্গুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া। তার ভাষ্য, গণেশ্বরী নদী দিয়ে মেঘালয়ের পানি প্রবেশ করায় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত পানি বাড়ছে।
দুর্গাপুর উপজেলার গাওকান্দিয়া ইউনিয়নের বন্ধঊশান গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, নেতাই নদীর পানি প্রবল স্রোতে প্রবেশ করায় আশপাশের কয়েকটি গ্রামের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক খামারির পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। পানি আরও বাড়লে দিনের মধ্যেই বাড়িঘর প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামসুজ্জামান আসিফ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে প্রশাসনের একটি দল কাজ করছে। পরিদর্শন শেষে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
আর/

