ক্ষুদ্র শিল্প মেলায় ‘জুয়া-লটারি’ বন্ধের দাবিতে সচেতন জনতার বিক্ষোভ, আল্টিমেটামের পরও হয়নি ব্যবস্থা

৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েও ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ ‘সচেতন জনতা সৈয়দপুরের’; মেলা কর্তৃপক্ষ বলছে অভিযোগ ভিত্তিহীন

by ABDUR RAHMAN
ক্ষুদ্র শিল্প মেলায় ‘জুয়া-লটারি’ বন্ধের দাবিতে সচেতন জনতার বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

নীলফামারীর সৈয়দপুর সেনানিবাসের ফেয়ার পার্কে চলমান ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলায় র‍্যাফেল ড্র, লটারি, জুয়া ও কথিত অসামাজিক কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ‘সচেতন জনতা সৈয়দপুর’।

বিজ্ঞাপন
banner

রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে শহরের রংপুর রোড জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে সংগঠনটির ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পাঁচমাথা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা তাদের দাবির পক্ষে বক্তব্য দেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মেলায় র‍্যাফেল ড্র, লটারি ও বিতর্কিত কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে এর আগে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে এবং শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন বক্তারা।

তাদের অভিযোগ, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত স্থানীয় উদ্যোক্তা, কারুশিল্পী ও ব্যবসায়ীদের পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ সৃষ্টি করা। কিন্তু বর্তমানে মেলায় র‍্যাফেল ড্র ও লটারিই প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। এছাড়া উচ্চ শব্দে মাইকিং, গভীর রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠান, যানজট এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন ‘সচেতন জনতা সৈয়দপুর’-এর উপদেষ্টা হাফেজ মো. নুরুল হুদা, সভাপতি গোলাম রব্বানী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী, শিক্ষক ও সাংবাদিক শাহাবাজ উদ্দিন সবুজ, নয়াবাজার জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা জিল্লুর রহমান এবং জামে আরাবিয়া মাদরাসার মুহতামিম ইলিয়াস রিয়াজীসহ অনেকে।

এ সময় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন।

এর আগে গত ৬ জুলাই ‘সচেতন জনতা সৈয়দপুর’-এর সভাপতি গোলাম রব্বানীর স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি নীলফামারী জেলা প্রশাসক ও সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়। পরে ১১ জুলাই একই দাবিতে স্থানীয় তামান্না মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করে সংগঠনটি।

এদিকে মেলায় র‍্যাফেল ড্র, লটারি ও অসামাজিক কার্যক্রমের অভিযোগ অস্বীকার করেছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান। গত ১৬ জুলাই রাতে মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসএমআর ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের চেয়ারম্যান এস এম রাশেদ এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। মেলা কর্তৃপক্ষও এর আগে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে একই ধরনের বক্তব্য দেয়।

মেলাকে ঘিরে অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান চান এলাকাবাসীর একটি অংশ।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ