গাজা যুদ্ধের হাজারতম দিন: গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞে অবরুদ্ধ উপত্যকা, যেন এক উন্মুক্ত কারাগার

গাজা সরকারের দাবি, উপত্যকার ৮০ শতাংশের বেশি এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে; হতাহত ও ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে নতুন পরিসংখ্যান

by ABDUR RAHMAN
গাজা যুদ্ধের হাজারতম দিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

গাজা যুদ্ধের হাজারতম দিনে উপত্যকার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গাজার স্থানীয় সরকার। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় ২ লাখ ২৩ হাজার টনের বেশি বিস্ফোরক নিক্ষেপ করেছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, উপত্যকার ৮০ শতাংশেরও বেশি এলাকা বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে তাদের হিসাব। নিহতদের মধ্যে ২১ হাজার ৫০০ জনের বেশি শিশু এবং ১২ হাজার ৫০০ জনের বেশি নারী রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৫৮ হাজার ৮০০ শিশু এতিম হয়েছে এবং ৯ হাজার ৫০০ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ জন। আহতদের মধ্যে ৪৩৩ জন সাংবাদিক রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ৫ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের অঙ্গহানি ঘটেছে, যার প্রায় ১৮ শতাংশই শিশু।

গাজা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রভাবে ১ হাজার ৫০০ জন পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১ হাজার ২০০ জন দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। একই সঙ্গে ২১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বিভিন্ন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭১ হাজার ৩৩৮ জন ভাইরাল হেপাটাইটিসে আক্রান্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ধর্মীয় ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবিও করেছে গাজার স্থানীয় সরকার। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১ হাজার ৪৭টি মসজিদ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ২১০টি মসজিদ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি তিনটি গির্জায় হামলার ঘটনা এবং ৩১২ জন ইমাম, খতিব, কোরআন শিক্ষক ও অন্যান্য ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। দাবি করা হয়েছে, ৩৮টি হাসপাতাল, ৯৬টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ১৯৭টি অ্যাম্বুলেন্স, ৮৪টি জরুরি সেবা যান এবং ১৬টি সিভিল ডিফেন্স কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে অথবা অচল হয়ে পড়েছে। সরাসরি আর্থিক ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব প্রায় ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে আবাসন খাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বলে জানানো হয়েছে।

 

এছাড়া গাজা সরকারের দাবি, যুদ্ধ চলাকালে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ভবন ও আবাসিক ইউনিট সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৭ লাখ ৩৭ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে, ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি নারী-পুরুষের ওপর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত পুলিৎজারজয়ী কলামিস্ট নিকোলাস ক্রিস্টফের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ১৪ জন ফিলিস্তিনি ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে ইসরায়েলি সেনা, কারারক্ষী, বসতি স্থাপনকারী এবং জিজ্ঞাসাবাদকারীদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার অভিযোগ বর্ণনা করা হয়েছে। তবে ইসরায়েলি নেতারা ধর্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ