গাজা পরিস্থিতি ও ইরান-হামাস কূটনৈতিক আলোচনা ঘিরে উত্তেজনা, চলমান সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে

ইরান-হামাস ফোনালাপে গাজা যুদ্ধবিরতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ উঠে আসে

by ABDUR RAHMAN
গাজা পরিস্থিতি ও ইরান-হামাস কূটনৈতিক আলোচনা ঘিরে উত্তেজনা

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাসেম নাঈমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। আলোচনায় গাজা পরিস্থিতি, যুদ্ধবিরতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্কিত সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো উঠে আসে বলে জানিয়েছে তাসনিম নিউজ।

বিজ্ঞাপন
banner

হামাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাসেম নাঈম যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতির জন্য তেহরানকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অবস্থানের বিরুদ্ধে ইরানের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি তেহরানের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, গাজায় চলমান পরিস্থিতি এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিষয়গুলো যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনায় নিয়মিতভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।

এরই মধ্যে গাজায় সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য সূত্র। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় একজন ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছে।

একই অঞ্চলে বাস্তুচ্যুতদের একটি তাঁবু লক্ষ্য করে হামলায় একজন নিহত এবং একজন আহত হন বলে চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া একটি মোটরসাইকেলে ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত হন এবং কয়েকজন আহত হন।

গত কয়েকদিনে গাজায় একাধিক হামলায় প্রাণহানি ঘটেছে বলে স্থানীয় হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার দাবি থাকলেও মাঠপর্যায়ে হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পরও শতাধিক মানুষ নিহত এবং হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং লক্ষাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।

এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার বাস্তুচ্যুত প্রায় ১৭ লাখ মানুষ চরম মানবিক সংকটে রয়েছে। হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসরত এসব মানুষের জন্য পর্যাপ্ত পানি, খাদ্য ও চিকিৎসা সুবিধা নেই।

জাতিসংঘ আরও সতর্ক করেছে যে, চলমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মানবিক সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

সূত্র: তাসনিম নিউজ, আল জাজিরা

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ