আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে দেশটি। ইসরায়েলি গণমাধ্যম ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (আইপিবিসি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেলআবিবের সামরিক ও নিরাপত্তা নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মনে করছে, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা কিংবা সম্ভাব্য সমঝোতা কার্যকর কোনো ফল দেবে না। তাদের মতে, বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি ইসরায়েলের জন্য নতুন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।
বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনাকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগাতে চাইছে ইসরায়েল। দেশটির নীতিনির্ধারকদের ধারণা, এই পরিস্থিতিতে ইরানের মূল ভূখণ্ডে নতুন করে হামলা চালানোর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
আইপিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কর্মকর্তারা সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর একটি নতুন তালিকা প্রস্তুত করেছেন। ওই তালিকায় ইরানের বেশ কয়েকটি অপরিশোধিত তেল শোধনাগার এবং জ্বালানি সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো বার্তায় ইসরায়েল স্পষ্ট করেছে যে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার পথ খুঁজছে এবং এ বিষয়ে সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনা দীর্ঘায়িত হলেও তাতে কাঙ্ক্ষিত ফল আসছে না।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে গাজা যুদ্ধ, লোহিত সাগরে নিরাপত্তা সংকট এবং পারস্য উপসাগরের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে। এমন বাস্তবতায় ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার ইঙ্গিতকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর
আর/

