অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
দীর্ঘ ২২ দিন বন্ধ থাকার পর দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড আবার চালু হতে যাচ্ছে। নতুন করে অপরিশোধিত তেলের চালান দেশে পৌঁছানোর পর উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার পর থেকেই পরিশোধন কার্যক্রম শুরু করা হবে। প্রাথমিকভাবে দৈনিক প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টন উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে।
এর আগে কাঁচামালের ঘাটতির কারণে গত এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে রিফাইনারিটির দুটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছিল।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জানায়, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি ট্যাংকারে বিপুল পরিমাণ ক্রুড অয়েল দেশে এসেছে। জাহাজটি কক্সবাজারের কুতুবদিয়া পয়েন্টে নোঙর করেছে এবং বর্তমানে তেল খালাসের প্রক্রিয়া চলছে।
লাইটারিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বড় জাহাজ থেকে ছোট ট্যাংকারে তেল স্থানান্তর করে তা চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ইস্টার্ন রিফাইনারিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মোট ৮টি লাইটার জাহাজ এ কাজে নিয়োজিত রয়েছে।
প্রাপ্ত ক্রুড অয়েল থেকে ডিজেল, পেট্রোল, কেরোসিন, ফার্নেস অয়েল ও অকটেনসহ বিভিন্ন জ্বালানি উৎপাদন করা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই চালান থেকে প্রাপ্ত তেল দিয়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন উৎপাদন কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে।
রিফাইনারি সূত্র জানায়, শুরুতে কারিগরি সমন্বয়ের কারণে উৎপাদন সীমিত রাখা হবে। তবে পর্যায়ক্রমে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, আরও একটি ক্রুড অয়েলের চালান সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে আসার প্রস্তুতি চলছে, যা মে মাসের শেষের দিকে দেশে পৌঁছাতে পারে। এতে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ঝুঁকি থাকলেও বিকল্প উৎস ও রুট ব্যবহার করে আমদানি অব্যাহত রাখা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আর/

