৩০০ ডলারের ড্রোনে নাস্তানাবুদ ইসরাইল—বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের ধরন

হিজবুল্লাহর কম খরচের প্রযুক্তিতে নিম্ন আকাশসীমায় দুর্বলতা উন্মোচন, বাড়ছে কৌশলগত চাপ

by ABDUR RAHMAN
৩০০ ডলারের ড্রোনে নাস্তানাবুদ ইসরাইল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে কম খরচের ফাইবার-অপটিক ড্রোন। বিশ্লেষকদের মতে, এসব ড্রোন ইসরাইলের নিম্ন-উচ্চতার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য দুর্বলতা সামনে এনেছে।

বিজ্ঞাপন
banner

বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননের ভৌগোলিক পরিবেশ—পাহাড়, উপত্যকা ও ঘন বসতি—এই প্রযুক্তির ব্যবহারে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। স্বল্প দূরত্ব অতিক্রম করেই লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানো সম্ভব হওয়ায় এসব ড্রোন দ্রুত হামলায় কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

হিজবুল্লাহর দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলাগুলোর বড় একটি অংশেই ফার্স্ট পারসন ভিউ (এফপিভি) ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। এপ্রিলের দ্বিতীয়ার্ধে চালানো ২২টি হামলার মধ্যে ১৬টিতে এই প্রযুক্তি প্রয়োগের কথাও জানানো হয়েছে।

এই ড্রোনগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—এগুলো রেডিও সিগন্যাল বা জিপিএসের ওপর নির্ভর করে না। বরং একটি পাতলা ফাইবার-অপটিক তারের মাধ্যমে অপারেটরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে, যা প্রায় ১৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। ফলে এগুলোকে ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের মাধ্যমে থামানো কঠিন।

খরচের দিক থেকেও এগুলো অত্যন্ত সাশ্রয়ী। প্রতিটি ড্রোন তৈরিতে আনুমানিক ৩০০ থেকে ৪০০ ডলার ব্যয় হয় এবং স্থানীয়ভাবে সহজ প্রযুক্তি ও থ্রি-ডি প্রিন্টিং ব্যবহার করে এগুলো তৈরি করা সম্ভব।

ড্রোনগুলো অপারেটরকে সরাসরি উচ্চ রেজোলিউশনের ভিডিও সরবরাহ করে, যার মাধ্যমে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা যায়। ট্যাংক, সাঁজোয়া যান কিংবা সামরিক অবস্থান—সবই এই প্রযুক্তির আওতায় পড়ছে।

ইসরাইলের উন্নত রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যেমন ট্রফি সিস্টেম, অনেক ক্ষেত্রে এই নিচু দিয়ে উড়া ড্রোন শনাক্ত করতে পারছে না বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন। ফলে অপারেশনাল ব্যয় ও ঝুঁকি দুটোই বাড়ছে।

তবে এই প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ফাইবার-অপটিক তার ছিঁড়ে গেলে ড্রোন নিয়ন্ত্রণ হারায়, এবং এর কার্যপরিসর তুলনামূলক কম। পাশাপাশি দক্ষ অপারেটরের প্রয়োজনীয়তাও একটি বড় বিষয়।

ইতিহাসে দেখা যায়, মানববিহীন অস্ত্র ব্যবহারের ধারণা নতুন নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধেও তার-নিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তির ব্যবহার হয়েছিল। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে লাইভ ভিডিও, এফপিভি এবং সস্তা যন্ত্রাংশের সমন্বয়ে এটি আরও কার্যকর হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ড্রোন যুদ্ধ কেবল ধ্বংস নয়, বরং প্রতিপক্ষের চলাচল ধীর করা, মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং নিরাপত্তা দুর্বলতা প্রকাশের কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

তারা আরও মনে করেন, ইসরাইল ভবিষ্যতে একক কোনো প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে, যেখানে আগাম শনাক্তকরণ, কৌশলগত অভিযোজন এবং উন্নত প্রতিরক্ষা স্তর অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সবশেষে, যুদ্ধক্ষেত্র এখন শুধু আকাশের উচ্চতায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং মাটির কাছাকাছি নিম্ন আকাশসীমাও হয়ে উঠেছে প্রতিযোগিতার নতুন ক্ষেত্র। কম খরচে উচ্চ কার্যকারিতার এই প্রযুক্তি ভবিষ্যৎ যুদ্ধের রূপ বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ