অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সহকারী মৌলভি (মুজাব্বিদ/কারি) পদে এবার কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস সনদকে শিক্ষাগত যোগ্যতার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এর ফলে সারাদেশে ১৩ হাজারেরও বেশি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দ্রুত প্রকাশ করা হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া। এতে কওমি মাদ্রাসার শীর্ষ বোর্ড ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’-এর প্রতিনিধি দল অংশ নেয়, যার নেতৃত্ব দেন কো-চেয়ারম্যান আল্লামা শেখ সাজিদুর রহমান।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আবেদনকারীদের দাওরায়ে হাদিস সনদের পাশাপাশি ‘ইলমে কেরাত’ অথবা ‘তাহফিজুল কুরআন’-এর সনদও জমা দিতে হবে। এসব সনদ সংশ্লিষ্ট বোর্ডের অধীনে স্বীকৃত হতে হবে।
এই পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী ১০ম গ্রেডে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সভায় আরও জানানো হয়, ‘কুরআন পড়, জীবন গড়’ স্লোগানে ‘নতুন কুঁড়ি জাতীয় কেরাত ও হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা-২০২৬’ আয়োজন করা হবে। এতে ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবে এবং জেলা থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
একই সঙ্গে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই প্রশিক্ষণকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় আনার উদ্যোগ চলছে।
সভায় মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে অপপ্রচার প্রতিরোধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক উপস্থিতি বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি MyGov প্ল্যাটফর্মে Apostille পদ্ধতিতে দাওরায়ে হাদিস সনদ সত্যায়নের প্রস্তাব আইসিটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে কওমি ও আলিয়া ধারার মধ্যে সমন্বয় বাড়বে এবং ধর্মীয় শিক্ষার শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
আর/

