আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরান এর মধ্যে। আমিরাত অভিযোগ করেছে, ফুজাইরাহ অঞ্চলের একটি জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান, যদিও তেহরান তা সরাসরি অস্বীকার করেছে।
আমিরাতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হামলায় তিনজন ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন এবং তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দেশটি ঘটনাটিকে “বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি” হিসেবে উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই হামলার বিষয়ে তাদের কোনো পূর্বপরিকল্পিত কর্মসূচি ছিল না। একজন সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেন, “ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের পক্ষ থেকে এমন হামলার কোনো পরিকল্পনা ছিল না।”
ইরান আরও অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিষিদ্ধ পথ ব্যবহার করে জাহাজ চলাচলের সুযোগ করে দিতে মার্কিন বাহিনীর দুঃসাহসিক পদক্ষেপ থেকেই এই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগর অঞ্চলে আটকে পড়া বেসামরিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি এটিকে মানবিক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন ইরান দাবি করে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতির পর তাদের নৌবাহিনী সতর্কতামূলক গুলি চালিয়েছে। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী সাতটি ইরানি ছোট সামরিক নৌযান ধ্বংস করেছে। যদিও ইরান এই দাবিকে সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছে।
একজন মার্কিন অ্যাডমিরাল আগে ছয়টি নৌযান ধ্বংসের কথা বললেও, উভয় পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী তথ্য পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহের রুট হওয়ায় হরমুজ প্রণালীতে যেকোনো উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই অঞ্চলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
আর/

