‘জুলাই সনদকে দলীয় ইশতেহারে রূপ দিয়েছে বিএনপি’—সংসদে নাহিদ ইসলামের অভিযোগ

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি; ঋণখেলাপি এমপিদের নিয়ে প্রশ্ন, ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগে মামলা না নেওয়ার ব্যাখ্যা চাইলেন

by ABDUR RAHMAN
সংসদে নাহিদ ইসলাম

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই সনদকে বিএনপি কার্যত দলীয় ইশতেহারে পরিণত করেছে, যা এর মূল উদ্দেশ্যকে কলুষিত করেছে।

বিজ্ঞাপন
banner

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে সংসদ অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ তোলেন।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল একটি গণরায় এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, যার আলোকে দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা উচিত ছিল। কিন্তু সে পথে না গিয়ে বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহারকেন্দ্রিক রাজনীতিতে ফিরে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলামের দাবি, সনদে এমন একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে—কোনো দল নির্বাচনে জয়ী হলে নিজেদের ইশতেহার অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। তার মতে, এতে জাতীয় ঐক্যের ধারণাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

রাজনীতিতে বিভাজনের সংস্কৃতি নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সাথে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে জঙ্গি’—এই প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ বিভাজন টিকে থাকা দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি দীর্ঘ সময় জামায়াতের সঙ্গে রাজনীতি করেছে, কিন্তু এই বিভাজনের সমাধানে বড় দলগুলো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ইতিহাসের এই বিতর্ক মিটিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, এটি দেশের ভিত্তি এবং এ নিয়ে কোনো বিতর্কের সুযোগ নেই। তবে মুক্তিযুদ্ধের নামে লুটপাট ও ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার অভিযোগও অস্বীকার করা যাবে না। তার ভাষায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল মুক্তিযুদ্ধেরই এক নবায়ন।

সংসদে তিনি আর্থিক খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার দাবি, বর্তমান সংসদ সদস্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ ঋণগ্রস্ত এবং তাদের মোট ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর বেশিরভাগই সরকারি দলের সদস্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগে আংশিক অর্থ পরিশোধ করে অনেকেই ঋণ পুনঃতফসিল করেছেন, ফলে তারা প্রার্থী হতে পেরেছেন। এই পুনঃতফসিল প্রক্রিয়াকে সহজ করতে একজন ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা গ্রহণ না করার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। শাহবাগ থানার সামনে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চান।

তিনি বলেন, থানার ভেতরে ঢুকে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে, যা উদ্বেগজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাংবাদিক সমিতির ভূমিকার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ