তুরস্কেও যুদ্ধের ছায়া! ইরানের হামলার আশঙ্কায় নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

by ABDUR RAHMAN

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল থেকে নিজেদের নাগরিকদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সোমবার (৯ মার্চ) আঙ্কারায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর তুরস্কের আদানা শহরে অবস্থিত কনস্যুলেট জেনারেল থেকে জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত এলাকা ত্যাগ করার জন্য জোরালোভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

আদানা শহরের কাছেই অবস্থিত ইনসারলিক বিমানঘাঁটি, যা ন্যাটোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি। কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রসহ ন্যাটো জোটের বাহিনী এই ঘাঁটি ব্যবহার করে আসছে। আদানা শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি রয়েছে।

এদিকে গত বুধবার তুরস্ক দাবি করে, ইরান থেকে তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তবে সেটি লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগেই ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা শনাক্ত করে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। এ ঘটনায় আঙ্কারা কঠোর সতর্কবার্তা দেয় এবং ন্যাটো তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার কথা জানায়।

স্পেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মার্গারিটা রবেলস বলেন, ইনসারলিক ঘাঁটিতে অবস্থানরত স্প্যানিশ সেনাদের পরিচালিত একটি প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারি ক্ষেপণাস্ত্রটি শনাক্ত করেছিল। তিনি বলেন, “তারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি শনাক্ত করে এবং সে বিষয়ে রিপোর্ট দেয়, তবে তারা সেটি ভূপাতিত করেনি।”

তবে তুরস্কের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরান। সোমবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, “ইরানি ভূখণ্ড থেকে তুরস্ক, সাইপ্রাস বা আজারবাইজানের দিকে কোনো হামলা চালানো হয়নি।”

তিনি আরও দাবি করেন, “হামলাগুলো পরিকল্পিত হতে পারে। আমরা বারবার সতর্ক করেছি যে শত্রুরা ইরান এবং অন্যান্য বন্ধু দেশের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে কিছু হামলার কাহিনি সাজিয়ে থাকতে পারে।”

ইসমাইল বাঘেই আরও বলেন, “ইরান এই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে ভালো ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে যদি অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করা হয়, তাহলে ইরানের নিজের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।”

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ