অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন করে কীভাবে নির্ধারিত হবে—এই দুটি প্রশ্নের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার শাহবাগে নিহত শরীফ ওসমান হাদীর সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ কীভাবে হবে এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কোন ভিত্তিতে নতুন করে নিরূপণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট সমাধান হয়নি। বিষয়গুলো নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর অনুচিত হবে। দেশের জনগণও এমন সফর মেনে নেবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শেখ হাসিনা একটি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। ওই সংবাদ সম্মেলনের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, ভারত সরকার এর দায় অস্বীকার করলেও এটি দেশটির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন ছাড়া সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান বোঝার জন্য নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার বক্তব্যগুলোকে শুধু তার ব্যক্তিগত বক্তব্য হিসেবে দেখলে চলবে না। এগুলোকে ভারতের অবস্থানের অংশ হিসেবেও বিবেচনা করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলামের ভাষ্য, কোনো দেশের স্বাধীনতাকামী কোনো সংগঠন যদি অন্য একটি দেশে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এবং সংশ্লিষ্ট সরকার দায় অস্বীকার করে, সেটি বিশ্বাসযোগ্য হওয়ার প্রশ্ন রয়েছে। একইভাবে দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের ক্ষেত্রেও ভারতের সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
গত ৫ আগস্টের সংবাদ সম্মেলন নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে এখনো প্রত্যাশিত বক্তব্য আসেনি বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ। তার মতে, এ ঘটনায় ভারতীয় পক্ষের দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও শুধু সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে সংশ্লিষ্টদের ডেকে জবাবদিহিতা চাওয়া এবং কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন ছিল।
ওই সংবাদ সম্মেলনকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আদালতে যার বিরুদ্ধে রায় হয়েছে, সেই আসামিকে অন্য একটি সরকার তাদের ভূখণ্ডে সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দিলে তা বাংলাদেশের গণতন্ত্র, বিচারব্যবস্থা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সেই সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।
নাহিদ ইসলামের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ‘ছায়াযুদ্ধ ঘোষণা’র মতো করে দেখা যেতে পারে।
ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, ন্যায্যতা ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে।
এ ক্ষেত্রে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো, নিহত শরীফ ওসমান হাদী-সংক্রান্ত আসামিকে ফেরত দেওয়া, আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা এবং সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের মীমাংসার মতো বিষয়গুলো সমাধান করে তারপর বন্ধুত্বের কথা বলতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, এসব বিষয়ে কার্যকর সমাধান ছাড়া ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে আগের কাঠামোয় ফিরিয়ে নেওয়া যাবে না। নতুন বাস্তবতায় দুই দেশের সম্পর্ক কীভাবে নির্ধারিত হবে, সেটিও স্পষ্ট করা জরুরি।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর না করার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, এমন সফর দেশের জনগণের কাছেও গ্রহণযোগ্য হবে না।

