অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার সময় পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতের ব্যাখ্যা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা ও উত্তপ্ত বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিনে কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে গিয়ে আরবিতে পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করেন। তিনি বক্তব্যে বলেন, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ কৌশলী এবং যারা অন্যায্য কৌশল গ্রহণ করে তাদের অবস্থা শোচনীয় হতে পারে—এমন বার্তা তুলে ধরেন।
তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন অভিযোগ করেন, কোরআনের আয়াতকে রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করে ব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অনুচিত। তিনি বলেন, ধর্মীয় আয়াত নিয়ে কোনো ধরনের ঠাট্টা-বিদ্রুপ বা ভুল ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়।
এ সময় তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিষয়টি সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান এবং ধর্মীয় বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্পিকার হস্তক্ষেপ করে বিষয়টি পর্যালোচনার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ একজন অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য এবং তিনি কোরআন-হাদিস নিয়ে বিদ্রূপ করবেন বলে মনে হয় না। তবে প্রয়োজনে বক্তব্য পরীক্ষা করে দেখা হবে এবং ভুল ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হবে।
এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য কোনো ব্যঙ্গ বা ভুল উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেননি। বরং তিনি আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া প্রসঙ্গে কথা বলেছেন বলে দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় বক্তব্যকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়।
তবে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান এই ব্যাখ্যার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, আয়াতের প্রেক্ষাপট আড়াল করে রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, যা সঠিক নয়। তিনি বিষয়টি বিশেষজ্ঞ বা আলেমদের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানান।
সংসদে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে স্পিকার বারবার সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংসদে অনেক ধর্মীয় জ্ঞানসম্পন্ন সদস্য রয়েছেন, তাই ধর্মীয় বিষয় নিয়ে সংযতভাবে আলোচনা করা উচিত।
সবশেষে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি বলেন, সবাই যেহেতু আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি বিশ্বাসী, তাই কারও বক্তব্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। তিনি সংসদের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার আহ্বান জানান।
শেষ পর্যন্ত স্পিকারের হস্তক্ষেপ ও সিনিয়র সদস্যদের বক্তব্যের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সংসদে বিরাজমান উত্তেজনা প্রশমিত হয়।
আর/

