যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধে শি জিনপিংয়ের চার দফা পরিকল্পনায় সমর্থন ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে চীনের উদ্যোগকে ইতিবাচক বলছে তেহরান

by ABDUR RAHMAN
যুদ্ধ বন্ধে শি জিনপিংয়ের চার দফা পরিকল্পনায় সমর্থন ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উত্থাপিত চার দফা শান্তি পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ইরান।

বিজ্ঞাপন
banner

চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবদোলরেজা রহমানি ফাজলি সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, তেহরান এই উদ্যোগকে সমর্থন করতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং যৌথ উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই চীনের প্রস্তাবকে সমর্থন করছে ইরান।

ফাজলির ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাম্প্রতিক বৈঠকেও এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে বেইজিংয়ে মোহাম্মদ বিন যায়েদ আল-নাহিয়ান–এর সঙ্গে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চার দফা পরিকল্পনা তুলে ধরেন শি জিনপিং।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চীনের প্রস্তাবে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়াকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “আমি ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের জবাব পড়েছি। এটি আমার পছন্দ হয়নি—একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।”

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের প্রস্তাব তেহরানের কাছে পাঠানো হয়েছিল।

ইরানের জবাবে বলা হয়, আলোচনার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত যুদ্ধ বন্ধ করা। পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি পরবর্তী ধাপে আলোচনা করা যেতে পারে বলেও জানায় তেহরান।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরও জানিয়েছে, তাদের জবাবে ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর বিরুদ্ধে সব ধরনের আগ্রাসন বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পাশাপাশি পারস্য উপসাগরে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে ইরান।

উল্লেখ্য, জেনেভায় আলোচনা চলাকালে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন বলে দাবি করে তেহরান।

একই দিনে মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৮ শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার অভিযোগও আনে ইরান। দেশটির সরকার ঘটনাটিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

এর প্রতিক্রিয়ায় টানা ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে শতাধিক হামলা চালানোর দাবি করে তেহরান।

পরে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

তবে আলোচনা অগ্রগতি না হওয়ায় ১৩ এপ্রিল হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর আরও এক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৮০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী রয়েছেন।

এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ সংঘাতে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত এবং ২৬ জন নিহত হয়েছেন।

সূত্র: আল জাজিরা, ডন ও মেহের নিউজ এজেন্সি

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ