“১৯৭৮ সালে গঠিত দল কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের দল হয়?” সংসদে প্রশ্ন আজহারুল ইসলামের

জামায়াত নেতার বক্তব্যে বিএনপির দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে বিতর্ক; নারী আসনের মনোনয়ন নিয়েও তীব্র সমালোচনা

by ABDUR RAHMAN
সংসদে এ টি এম আজহারুল ইসলাম

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ টি এম আজহারুল ইসলাম বিএনপির মুক্তিযুদ্ধের দল হিসেবে নিজেদের দাবি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হলেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর—এ অবস্থায় দলটি কীভাবে নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের দল বলে দাবি করে, সেটি জনগণের কাছে পরিষ্কার নয়।

বিজ্ঞাপন
banner

বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তার বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

আজহারুল ইসলাম বলেন, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে তাদের নারী নেত্রীরা বিভিন্ন সময় রাজপথে সক্রিয় আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, যা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

তবে তিনি অভিযোগ করেন, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপি অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার দাবি, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার মহিলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদকের মতো একজন নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যা দলটির অভ্যন্তরীণ সংকটের ইঙ্গিত দেয়।

এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিএনপি কি যোগ্য নারী নেতৃত্বের অভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নাকি কোনো বিশেষ রাজনৈতিক শক্তিকে সন্তুষ্ট করার জন্য এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তার বক্তব্যে আরও উঠে আসে ‘জান্নাতের টিকিট’ প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তারা নাকি জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে। এ বিষয়ে তিনি ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, “আমরা অবশ্যই জান্নাতে যেতে চাই। আমাদের আন্দোলনও সেই লক্ষ্যে। আপনারা কি জান্নাতে যেতে চান না?”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দলের মধ্যে পারস্পরিক সমালোচনা ও বক্তব্যের তীব্রতা বাড়ছে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়, তবে সংসদের ভেতরে এ ধরনের প্রশ্ন উত্থাপন তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য আরও প্রকট হচ্ছে। ফলে এ ধরনের বক্তব্য ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ