অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
বাংলাদেশে চলমান গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট মোকাবেলায় কার্ডভিত্তিক ব্যবস্থাকে অকার্যকর উল্লেখ করে জামায়াত নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।
সোমবার রাতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকারের দেওয়া ফ্যামিলি কার্ড বা এলপিজি কার্ড যদি দেশের প্রতিটি পরিবার না পায়, তাহলে তা বৈষম্য তৈরি করবে। তার মতে, সংকট সমাধানের নামে কার্ড বিতরণ জনগণের প্রকৃত সমস্যার সমাধান নয়।
গ্যাস সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, এলপিজি কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ মূল সমস্যাকে আড়াল করছে। তিনি বলেন, বাজারে সিন্ডিকেট ভাঙা না গেলে সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে। দলীয় প্রভাব ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ বন্ধ হলেই সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফিরতে পারে।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশের আন্দোলন-সংগ্রামে কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অবদান সবচেয়ে বেশি। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্র সংস্কার জরুরি এবং এ ক্ষেত্রে গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, অতীতে আন্দোলনের সময় দলটির নেতারা অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত নির্যাতনের মুখে পড়েননি। বরং তারা বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, জামায়াত কখনো ‘ম্যানেজের রাজনীতি’ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।
২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেদিন রাজপথে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরাই সক্রিয় ছিল এবং ত্যাগ স্বীকার করেছে। অথচ বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হচ্ছে, যা তিনি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন।
সরকারের প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। গণভোটের রায় অস্বীকার করা হলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, যিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে চাপ প্রয়োগ করা হবে।
সভাটি বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শ্রমিক সমাবেশ সফল করতে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।
আর/

