ভারত মহাসাগরে শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় ডুবে গেছে ইরানের নৌবাহিনীর ফ্রিগেট আইআরআইএস ডেনা। এ ঘটনায় অন্তত ৮০ থেকে ৮৭ জন ইরানি নাবিক নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটলেও এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে হঠাৎ করেই উত্তপ্ত করে তুলেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ হামলার দায় স্বীকার করে বলেন, “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে এ ধরনের সরাসরি সাবমেরিন হামলা এই প্রথম। টর্পেডো নিক্ষেপকারী সাবমেরিনটি যুক্তরাষ্ট্রের বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।”
ডুবে যাওয়া যুদ্ধজাহাজটি সম্প্রতি ভারতের বিশাখাপত্তনমে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নৌমহড়া ইন্টারন্যাশনাল ফ্লিট রিভিউ ২০২৬ এবং মিলন ২০২৬–এ অংশ নিয়েছিল। ভারতের আতিথেয়তা গ্রহণের পর নিজ দেশে ফেরার পথে জাহাজটি হামলার শিকার হয়।
জাহাজটিতে প্রায় ১৮০ জন ইরানি নৌসেনা সদস্য ছিলেন। এর মধ্যে বহু নাবিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনী উদ্ধার অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে। নিখোঁজদের ভাগ্য নিয়ে আশঙ্কা রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের কাছাকাছি সমুদ্র অঞ্চলে এ ধরনের হামলা নয়াদিল্লির কৌশলগত অবস্থান ও আঞ্চলিক প্রভাবের জন্য উদ্বেগজনক। কারণ ভারত মহাসাগরের এই অংশকে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত তার কৌশলগত প্রভাব বলয়ের অংশ হিসেবে দেখে।
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া স্টাডিজের প্রভাষক সুশান্ত সিং বলেন, “ভারতীয় জলসীমা ছেড়ে যাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর আইআরআইএস ডেনা ডুবে যাওয়া নয়াদিল্লির আঞ্চলিক বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য একটি বড় আঘাত।”
তিনি আরও বলেন, “ইরানি জাহাজটি এমন একটি সমুদ্রপথ দিয়ে যাচ্ছিলো যা কোনো সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্র নয় এবং এটি ভারতের প্রভাব বলয়ের খুব কাছাকাছি। এই পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবে ভারতের জন্য অস্বস্তিকর।”
ঘটনার পর ভারত সরকার বা ভারতীয় নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে কূটনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে, এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এখন ভারত মহাসাগর অঞ্চলেও নতুন মাত্রা পেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ রক্ষা করা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিজেদের সামুদ্রিক প্রভাববলয়ের নিরাপত্তা বজায় রাখা—এই তিনটি বিষয় এখন ভারতের জন্য বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আর/

