১৬৩
মতামত>> সাঈদ আহমাদ খান নদভী
১- এ প্রশ্নের উত্তর আমরা হাদিস থেকে জেনে নেই। মুসলিম শরিফের ২৭৪৪ নং হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
يَتْبَعُ الدَّجَّالَ مِن يَهُودِ أصْبَهانَ، سَبْعُونَ ألْفًا عليهمُ الطَّيالِسَةُ.
الراوي : أنس بن مالك، صحيح مسلم، رقم: ٢٩٤٤
অর্থ: দাজ্জালকে অনুসরণ করবে ইসফাহান-এর ইহুদিদের মধ্য থেকে সত্তর হাজার লোক, যাদের গায়ে থাকবে তায়ালিসা বা রুমাল।
মুসলমান ও ইহুদিদের বিভিন্ন কিতাবের রেওয়ায়েত থেকে পাওয়া যায়, দাজ্জাল ইসফাহান শহরের একটি ইহুদি গ্রাম থেকে আবির্ভূত হবে। সেখানে তার অনুসরণ করবে কেবলমাত্র সত্তর হাজার ইহুদি, যাদের পরনে থাকবে টুপি ও রুমাল-সদৃশ কাপড়। প্রথমে সে দাবি করবে যে সে একজন নেককার মানুষ। এরপর সে দাবি করবে, সে একজন রাজা (মহান রাষ্ট্রনায়ক)। এরপর সে নবী হওয়ার দাবি করবে। আর সর্বশেষ সে নিজেকে প্রভু (রব) বলে দাবি করবে।
তার লক্ষ্য হবে কুদস (জেরুসালেম)। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে মারা যাবে। তাকে হত্যা করবেন নবী ঈসা ইবনে মারইয়াম আ., লুদ্দ শহরে।
বুঝতেই পারছেন, ই/স/রা/ই/ল কেন এত উঠে পড়ে লাগছে? একদিকে তাদের গ্রেট ই/স/রা/ই/লের স্বপ্নের পেছনে সবচে’ বড় বাধা হলো ইরান, অন্যদিকে গ্রেট ই/স/রা/ই/লের ‘মহান’ ক্ষমতাধর মা/সি/হু/দ্দা/জ্জা/লের আগমনের অপেক্ষা, লাল গাই বলিদান ও জেরুজালেম দখল করে হা/ই/কা/লে সোলেমানির সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন; সব মিলিয়ে ই/স/রা/ই/ল তাদের প্রভুর আগমনের রাস্তা ক্লিয়ার করতে পাগলের মত হয়ে গেছে।
কারণ, ১৯৪৮ সনে ইসরাইল রাষ্ট্র গঠনের পর থেকে শুরু করে ২০২৮ সনে তাদের রাষ্ট্র গঠনের ৮০ বছর পুরা হবে। তাদের ইতিহাস বলে, প্রতি ৮০ বছরের মাথায় তারা কোনো না কোনো জাতির কাছে অপদস্ত হয়। এবারো কি তাই হবে? সময়ই বলে দিবে এর উত্তর।
২- এখান থেকে অনেকে ইরানকে দোষারোপ করে বলবে, ইরানের লোকজন দাজ্জালের অনুসারী হবে। কিন্তু এ কথা বোকামিসূলভ। সমগ্র ইরান দাজ্জালের অনুসারী হবে না। বরং ইরানের একটিমাত্র অংশ যারা ইহুদি; দাজ্জালের অনুসারী হবে। যে অংশটির অধিকাংশই এখনো তেহরান ও আস্পাহানে বসবাস করছে।
যারা মনে করে, ইরানের সকল জনগণই দাজ্জালের অনুসারী হবে, তাদের ধারণা ভুল। কারণ, বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী ইরানে এখনো প্রায় ১০% মুসলমান সুন্নি রয়েছে। ৫% আছে ইহুদি। আর প্রায় ৮৫% পার্সেন্ট আছে শিআ।
শিআদের মধ্যে আবার বিভিন্ন গ্রুপ রয়েছে। তাদের মধ্যে কারো কারো আকিদা কুফুরি পর্যায়ের। কারো কারো আকিদা আহলুস সুন্নাহের মতো না হলেও তারা ইসলামের অন্তর্ভুক্ত।
তবে, ইরানের শিআ আর সুন্নিরা একটি বিষয়ে একমত যে, তাদের ১২ তম ইমাম হবেন ইমাম মাহদি। যার হাতে সমগ্র বিশ্বনেতৃত্ব চলে যাবে। আর তিনি শিআদের হুসাইনি বংশ থেকে আসবে৷ তার আগমন অতিসন্নিকটে সে ব্যাপারেও শিআরা একমত।
এজন্যই শিআদের বর্তমান নেতা ইমাম আয়াতুল্লাহ খোমেনি নিজেদের ইছনা আশারিআর বিভিন্ন কুফুরি মতাদর্শকে মাইনাস করে সমগ্র শিআ ও সুন্নিদেরকে এক কাতারে আনার চেষ্টা করেছেন। যদিও তার পূর্বসূরি শিআ নেতা রুহুল্লাহ খোমেনি যিনি ইরানি বিপ্লবের কর্ণধার ছিলেন, বিভিন্ন কুফুরি মতাদর্শে ধারণ করতো।
কিন্তু বর্তমান শিয়া নেতাগণ তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী, দ্বাদশ ইমামের (ইমাম মাহদী) অগ্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এখানেই আমরা ইরানের পক্ষে। কারণ, তারাও আমাদের মত আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী, তারাও নবি মুহাম্মাদকে শেষ নবি হিসেবে মানছে, তারাও শেষ নবির সর্বশেষ প্রতিনিধি হিসেবে হজরত মাহদির আগমনের অপেক্ষায় আছে। অন্যদিকে ই/স/রা/ই/ল আছে তাদের মাসীহুদ্দাজ্জালের আগমনের অপেক্ষায়।
বাস, এখন আমেরিকা, ই/স/রা/ই/ল ও দা/জ্জা/লের বিপক্ষে যেই থাকবে, সে যদি একটি প্রশিক্ষিত কুকুরও হয়, আমাদের দুআ থাকবে তার সফলতার পেছনে পেছনে। আর যদি আমেরিকা, ই/স/রা/ই/ল ও দা/জ্জা/লের পক্ষে আমাদের ভক্ষণযোগ্য কোনো ছাগলও ছুটে, দুআ করবো, আল্লাহ যেন তাকে সঠিক পথ দেখায়। নতুবা কুফুরিশক্তির সাথে তাকেও ধ্বংস করে দেয়! আমীন!
