২০০৬ খ্রিষ্টাব্দের ২১ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবারের মতো কওমি সনদের স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেন। কওমি ধারার দাওরায়ে হাদীস সনদকে সাধারণ শিক্ষার মাস্টার্সের সমমান দেওয়া হয়। একই বছরের অক্টেবরে এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ হয়।
এবার নতুন শিক্ষা আইনের খসড়ায় কওমি শিক্ষার বিষয়টিও যুক্ত করা হয়েছে। মাদরাসা শিক্ষার সংজ্ঞায় কওমি ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
গত শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ নতুন শিক্ষা আইনের খসড়া প্রকাশ করে।
প্রকাশিত খসড়ায় বলা হয়েছে, ‘সরকার কওমি মাদরাসার শিক্ষা কার্যক্রমের মান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, খসড়া আইনের ওপর মতামত আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে নির্ধারিত ই-মেইলে পাঠাতে হবে। মতামত পাঠানোর ই-মেইল ঠিকানা হলো- opinion-edu-act@moedu.gov.bd।
আইনের খসড়ায় ‘মাদরাসা শিক্ষা অর্থ- মাদরাসা শিক্ষা সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে পরিচালিত ইবতেদায়ি, দাখিল, আলিম, ফাজিল কামিল ও উচ্চতর ডিগ্রির আলিয়া নেসাবের শিক্ষা কার্যক্রম এবং কওমি নেসাবের মাদরাসা শিক্ষা কার্যক্রমকে বোঝাবে বলা হয়েছে।’
অপরদিকে ‘সাধারণ শিক্ষা’ বলতে মূলত সেই শিক্ষাব্যবস্থাকে বোঝানো হয়েছে যা মাদরাসা, কারিগরি, বৃত্তিমূলক বা বিশেষায়িত (সংস্কৃত ও পালি) শিক্ষার বাইরে অবস্থিত মূলধারার আনুষ্ঠানিক শিক্ষা
শিক্ষা মন্ত্রণালয় আরো জানায়, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রসার, সবার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগ অবারিত, বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জীবনব্যাপী ও সর্বজনীন করা এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করে আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রচলিত আইনের বিধানগুলো অধিকতর সংহত ও কার্যকর করার উদ্দেশ্যে পরিপূরক বা সম্পূরক বিধান প্রণয়নকল্পে আনীত।
যেহেতু মানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জীবনব্যাপী এবং যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন, যেহেতু শিক্ষা সম্পর্কিত প্রচলিত আইনের বিধানগুলোকে অধিকতর সমন্বিত ও কার্যকর করার উদ্দেশ্যে পরিপূরক বা সম্পূরক বিধান প্রয়োজন। সেহেতু এই আইন প্রণয়ন করা হলে।
এর আগে কওমি শিক্ষা ধারাকে সাধারণ ধারার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়। নতুন শিক্ষা আইনের খসড়ায় কওমি শিক্ষা যুক্ত হওয়ায় সেই উদ্যোগের অগ্রগতি বলে উল্লেখ করেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।
আবুআ/

