আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ইরানের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশটির অগ্রগতি, সামাজিকভাবে প্রতিকূলতা মোকাবিলা এবং জনগণের যাবতীয় সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ও চালিকাশক্তি হলো নামাজ—এমন মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি।
পবিত্র মাশহাদ শহরের ইমাম রেজা (আ.) মাজার প্রাঙ্গণে আয়োজিত ৩৩তম ‘জাতীয় নামাজ সম্মেলন’-এ পাঠানো এক বিশেষ লিখিত বার্তায় তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। ইবাদতবিষয়ক ওই সম্মেলনে উপস্থিত প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বার্তাটি পড়ে শোনানো হয়।
বার্তায় আয়াতুল্লাহ খামেনি উল্লেখ করেন, নামাজ কেবল ব্যক্তিজীবনের কোনো একক বাধ্যবাধকতা বা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি একটি আদর্শ ইসলামি শাসনব্যবস্থার সুদৃঢ় সামাজিক ভিত্তি। সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত এই শ্রেষ্ঠ নিয়ামত মানুষের আত্মসংযম অর্জন এবং ভেতরের কুপ্রবৃত্তি ও শয়তানি চক্রের বিরুদ্ধে অবিচল থেকে লড়াই করার সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। একই সঙ্গে এটি হৃদয়ে প্রশান্তি, আশা ও মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থার সৃষ্টি করে।
পবিত্র কোরআনের নির্দেশনার উল্লেখ করে তিনি জানান, সামর্থ্য ও ক্ষমতা অর্জিত হলে সমাজে সালাত কায়েম করাই সৎকর্মশীলদের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব। মহান আল্লাহর নির্দেশিত ‘নামাজ কায়েম করো’ বাণীটি বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ইরানি জনগণের জন্য অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সামাজিক পর্যায়ে এই ধর্মীয় চেতনার সুফল পৌঁছে দিতে সমাজের প্রতিটি স্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে পরিবার, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বদের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নামাজের চর্চা প্রাতিষ্ঠানিক ও বিস্তৃত করতে দ্বিগুণ ভূমিকা রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
বার্তার শেষাংশে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, স্রষ্টার অশেষ কৃপায় ইরানি জনগণ সার্বিক জীবনে নামাজ কায়েমের মধ্য দিয়ে এর সকল বরকত, রহমত ও জাতীয় শক্তি অর্জনে সমর্থ হবে।
সূত্র: প্রেস টিভি

